“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”র তাৎপর্য


আল্লাহর দিকে নবী-রাসূলদের আহবান

মানবজাতিকে (অর্থাৎ সর্বপ্রথম মানব আদম ও তাঁর স্ত্রীকে) এ দুনিয়ায় পাঠানোর সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেছিলেনঃ
“আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে।”(সূরা,বাকারা ২: ৩৮)
যুগে যুগে নবী-রাসূলরা সে হেদায়েতের আহবান নিয়ে মানবজাতির কাছে এসেছিলেন। আমাদের ঐ সত্য পথের অনুসরণ করার জন্য জানা প্রয়োজন নবী-রাসূলদের আহবান সম্পর্কে, যাতে আমরা মুক্তি ও সফলতা লাভ করতে পারি। আল্-কুরআনের অনেক স্থানে আল্লাহ (সুবঃ),মানব জাতির প্রতি নবী-রাসূলদের আহবানের বর্ণনা দিয়েছেন। এখানে আমরা আল-কুরআন থেকে কয়েকজন নবী এবং রাসূলের আহবান তুলে ধরছি-

নূহ (আঃ) এর আহবানের ব্যাপারে আল্লাহ (সুবঃ) বলেনঃ
“আর অবশ্যই আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর জাতির প্রতি প্রেরণ করেছি, (তিনি বললেন) নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী। তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো এবাদত করবে না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের ভয় করছি। ”(সূরা, হুদ ১১:২৫-২৬)
ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর কওমকে এই বলে আহবান জানিয়েছিলেনঃ

“অতঃপর যখন সূর্যকে চকচক করতে দেখল, বললঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যেসব বিষয়কে শরীক কর, আমি ওসব থেকে মুক্ত। আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেক নই।”(সূরা আন’আম ৬:৭৮-৭৯)

“স্মরণ কর ইব্রাহীমকে। যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন; তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাঁকে ভয় কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বোঝ” (সূরা আনকাবুত ২৯: ১৬)

হুদ (আঃ) এর আহবানঃ
“আর আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি; তিনি বলেন-হে আমার জাতি, আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ভিন্ন তোমাদের কোন মাবুদ নেই, তোমরা সবাই মিথ্যা আরোপ করছ।” (সূরা, হুদ ১১:৫০)

সালেহ (আঃ) এর আহবানঃ
“আর সামুদ জাতি প্রতি তাদের ভাই সালেহ কে প্রেরণ করি; তিনি বললেন, হে আমার জাতি। আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নাই। তিনিই যমীন হতে তোমাদেরকে পয়দা করেছেন, তন্মধ্যে তোমাদেরকে বসতি দান করেছেন। অতএব; তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে চল আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, কবুল করে থাকেন; সন্দেহ নেই। ” (সূরা, হুদ ১১:৬১)

ইউসুফ (আঃ) এর আহবানের অংশবিশেষঃ
“হে কারাগারের সঙ্গীরা! পৃথক পৃথক অনেক উপাস্য ভাল, না পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলো নামের এবাদত কর, সেগুলো তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। আল্লাহ এদের কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। ” (সূরা, ইউসুফ ১২:৩৯-৪০)
আল্লাহর একক সার্বভৌমত্বের দাবীদার ত্বাগুত ফিরাউনের উদ্দেশ্যে মুসা (আঃ) বলেছিলেনঃ
“এই মর্মে যে, আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার কাছে অর্পণ কর। আমি তোমাদের জন্য প্রেরীত বিশ্বস্ত রসূল। আর তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করো না। আমি তোমাদের কাছে প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থিত করছি।” (সূরা, আদ-দোখান ৪৪:১৮-১৯)
ঈসা (আঃ) এর আহবানঃ
“তিনি আরও বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তার এবাদত কর। এটা সরল পথ।” (সূরা মারইয়াম ১৯:৩৬)
মুহাম্মদ (সঃ) রিসালাত পাওয়ার পর থেকে আমৃত্যূ আল্লাহর দিকে আহবান জানিয়েছিলেন। তিনি আহবান জানিয়েছিলেন এই বলেঃ

“ইয়া আইয়ুহান্ নাস ক্বুলু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহা তুফলেহাও” -হে লোক সকল! তোমরা বল আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তাহলে তোমরা সফলকাম হবে। (আহমাদ, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)। মুহাম্মদ (সঃ) এর আহবান এর ব্যাপারে আল্লাহ বলেনঃ

“যেন তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো বন্দেগী না কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি তাঁরই পক্ষ হতে সতর্ককারী ও সুসংবাদ দাতা। আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশী করে দেবেন আর যদি তোমরা বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি। আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। ” (সূরা, হুদ ১১:২-৪)

রাসূল (সঃ) যখন মুশরিকদের বাতিল ইলাহদের বর্জন করে এককভাবে শুধু আল্লাহর ইবাদতের আহবান জানিয়েছিলেন তখন তারা জবাবে বলেছিলঃ
“আমরা কি এক পাগল কবির কথায় আমাদের মা‘বুদগুলোকে বর্জন করব?” (সূরা, সাফফাত ৩৭:৩৬)

আহলে কিতাবদের আহবান করার জন্য আল্লাহ তাঁর রাসূল (সঃ) কে শিক্ষাদান করেনঃ“বলুনঃ ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত। ” (সূরা, আল- ইমরান ৩:৬৪)
উপরোক্ত আল্লাহর বানীগুলো থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় সমস্ত নবী-রাসূলরাই এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করার আহবান জানিয়েছিলেন, কুরআনে সূরা নাহলের ৩৬ নং আয়াতে রাসূলদের প্রেরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেনঃ
“আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দেবার জন্য।” (সূরা, নাহল ১৬:৩৬)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা আরো বলেনঃ
“আমি তোমার পুর্বে এমন কোন রাসূল পাঠাইনি তার কাছে এই ওহী ছাড়া যে আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই সুতরাং আমারই ইবাদত কর।” (সূরা, আম্বিয়া ২১:২৫)
সুতরাং সমস্ত নবী-রাসূলগনের আহবানের কালিমা ছিল একটাইঃ “আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।”

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা মানুষকে কেন সৃষ্টি করেছেন?
আল্লাহর (সুবঃ) বানীঃ

“মানুষের উপর এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব অতঃপর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।” (সূরা দাহর ৭৬:১-৩)
আল্লাহ্ (সুবঃ) মানবজাতিকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, তাদেরকে বিবেক-বুদ্ধি এবং ভাল-মন্দের জ্ঞান দান করেছেন।সামান্য বীর্য কণা থেকে সৃষ্টি করে আল্লাহ্ মানুষকে অনেক উত্তম অবস্থানে নিয়ে এসেছেন, অন্যান্য প্রানী থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তাদের জীবিকার প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস তিনিই সরবরাহ করছেন। আল্লাহ্ (সুবঃ) বলেনঃ

“নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” (সূরা,বনী ঈসরাঈল ১৭:৭০)

আল্লাহ্ মানবজাতির জন্য এ যমীনকে সম্পূর্ণ বসবাস উপযোগী করে দিয়েছেন, আসমানকে তাদের জন্য করেছেন ছাদ স্বরূপ।আল্লাহ (সুবঃ) বলেনঃ
“হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে। যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।” (সূরা, বাকারা ২:২১-২২)
এতসব আল্লাহ্ (সুবঃ) এমনি এমনিই দেননি। এসব কিছুর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, আল্লাহ্ (সুবঃ) বলেনঃ

“তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?” (সূরা মু’মিনুন ২৩:১১৫)
মানুষ সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ্ (সুবঃ) তায়ালা বলেনঃ

“আমি মানুষ এবং জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য”।(যারিয়াত ৫১:৫৬)

আয়াতের এর ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেন অর্থাৎ আমার (আল্লাহর) একত্বকে মেনে নেয়ার জন্যই আমি তাদের সৃষ্টি করেছি। সুতরাং তাওহীদকে মেনে নিয়ে এককভাবে শুধু আল্লাহর ইবাদত করার জন্যই আল্লাহ (সুবঃ)মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আর এ দিকেই সমস্ত নবী-রাসূলগণ আহবান করেছিলেনঃ
“আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসুল প্রেরন করেছি আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দেবার জন্য।” (সূরা, নাহল ১৬:৩৬)
সমস্ত মানুষের প্রতি আল্লাহর হক্ হচ্ছে এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা। রাসূল (সঃ) বলেছেন-“বান্দার প্রতি আল্লাহর হক্ হচ্ছে তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না।” (মুসলিম, ইফাবা/৫০)
সুতরাং যে ব্যক্তি শরীকবিহীন অবস্থায় আল্লাহর ইবাদত করে সে তার সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে পূরণ করল, আল্লাহর হক্ আদায় করল।আর যে ব্যক্তি আল্লাহর শরীক করল সে সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করল এবং আল্লাহর হক্ আদায় করল না। সে তার নিজের ধ্বংস ডেকে আনল, সে কাফির, মুশরিক এবং অকৃতজ্ঞ।অতএব একজন মানুষের উচিত তার নিজের মুক্তির জন্য নিম্নের তিনটি বিষয়ে জানা এবং নিজের জন্য মেনে নেয়াঃ

১। এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা
২। আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা
৩। আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে রব এবং ইলাহ হিসেবে গ্রহন না করা
আর কালেমার স্বীকৃতির মাধ্যমে উপরোক্ত তিনটি জিনিসেরই স্বীকৃতি দেয়া হয়।

কালেমা সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা
হে আল্লাহর বান্দারা (আল্লাহ্ আপনাদের সত্য পথের দিশা দান করুন) আপনারা জেনে রাখুন ইসলামে প্রবেশের একটি মাত্র কালেমা ইহাকে কালেমা তাইয়্যেবা বা কালেমাতুত তাওহীদ বলে। এ কালেমার স্বাক্ষ্য দানের মাধ্যমে একজন মানুষ তাওহীদ কে মেনে নেয়, ইসলামে প্রবেশ করে এবং মুসলিমে পরিণত হয়। অপরদিকে যে এ কালেমার স্বাক্ষ্যদান থেকে বিরত থাকে সে কাফির এবং মুশরিক থেকে যায়। এ কালেমা সম্পর্কে জানার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা নির্র্দেশঃ

“তুমি জেনে রাখো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।” (মুহাম্মদ ৪৭:১৯)
রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ

“আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই“একথা জানা অবস্থায় যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করলো সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম)
আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান আল শাইখ (রহঃ) বলেছেনঃ “লা ইলাহা ইলালাহর অর্থসহ সেই এলমে ইয়াকীনী বা নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যা ﺕﺎﺒﺛﺍ ﻰﻔﻧ (কি অস্বীকার করা হয় আর কি সাব্যস্ত করা হয় তা) সহ জানা আল্লাহ্ ওয়াজিব করে দিয়েছেন।” (আদ দারু সুন্নাহ)

শাইখ আব্দুল্লাহ বিন আবদির রাহমান আবা বাতিন (রহঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ
“বস্তুতঃ সকল মানুষের জন্য এটা একটা পয়গাম। যাতে এর দ্বারা উহারা সতর্ক হয় এবং তারা জেনে নিবে যে, প্রকৃতপক্ষে ইলাহ শুধু একজনই, আর বুদ্ধিমান যাতে লোকেরা উপদেশ গ্রহন করে।” (সূরা ইবরাহীম ১৪: ৫২)
শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব(রহঃ)বলেছেন, “অর্থ জানা ব্যতীত এবং কালেমা (লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ)এর দাবী মোতাবেক কর্ম সম্পাদন ব্যতীত শুধুমাত্র শাব্দিক স্বাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তি মুসলমান হতে পারে না। বরং এ মৌখিক স্বাক্ষ্য আদম সন্তানের বির€দ্ধে একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত।” তিনি আরও বলেন,“আপনি জেনে রাখুন (আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন) যে, নামাজ-রোজা ফরজ কিন্তু এরও আগের ফরজ হচ্ছে কালেমার স্বাক্ষ্য দানের বিষয়টি জেনে নেয়া। অতএব নামাজ-রোজার গবেষণার অপরিহার্যতার চেয়ে বান্দার জন্য অধিকতর অপরিহার্য বিষয় হচ্ছে কালেমা এর অর্থ নিয়ে গবেষণা করা।এ কালেমা সম্পর্কে জানা অপরিহার্য এ জন্য যে, “আল্লাহ এক এবং তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য হকদার” এটা না জানলে কোন ব্যক্তির ইসলামে প্রবেশ গ্রহনযোগ্য নয়। এ জন্যই তাওহীদের ইলমকে বান্দার ইসলাম কবুলের শর্তরূপে নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যে নিজেকে মুসলিম দাবী করে তার প্রতি ফরজ হচ্ছে সে এ কালেমার অর্থ, গুরুত্ব, মর্যাদা, ফযীলত, এর রোকন ও এর শর্তাবলী জেনে নেবে; যেন এর দাবী পুরণ করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা লাভ করতে পারে। কারণ এ কালেমা সম্পর্কে অজ্ঞতা, মুর্খতা বান্দার ব্যর্থতা এবং চিরস্থায়ী ধ্বংস ডেকে আনে। আসুন, আমরা সকলে এ কালেমা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জেনে নেই।

কালেমা সম্পর্কে বর্তমানে অধিকাংশ লোকের অবস্থা
অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ এ কালেমা সম্পর্কে অজ্ঞ, একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা যার প্রতি করুনা করেছেন, আর শিরক্ থেকে রক্ষা করেছেন, সে ছাড়া অধিকাংশ লোকের মধ্যেই কতিপয় শিরক্ লুকায়িত আছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অধিকাংশ লোকের অবস্থা হচ্ছে তারা জানে না এ কালেমার অর্থ কি, কি এর গুরুত্ব ও মর্যাদা, এ কালেমার দাবীই বা কি, এ কালেমার স্বাক্ষ্য দানের মাধ্যমে কি তারা স্বীকার করে নিয়েছে আর কি অস্বীকার করেছে। তারা দাবী করছে আমরা মুসলিম আমরা আল্লাহ্ ছাড়া আর করো ইবাদত করি না অথচ তারা বাস্তবিকভাবে আল্লাহর পাশাপাশি অন্য অনেক কিছুর ইবাদত করছে।
আল্লাহ্র (সুবঃ) বানীঃ
“অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।” (সূরা, ইউসুফ ১২:১০৬)
বর্তমানে এ আয়াতের বাস্তবতায় দেখছি অধিকাংশ মানুষ মুখে ঈমানের দাবী করা সত্বেও কর্মের ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর সাথে শিরক্ করছে। বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষের অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে শেখ মুহাম্মদ আলী আল রাফাঈ বলেন- “অধিকাংশ মুসলমানই এ ভুল ধারণা করে যে, কালেমাটি মুখে উচ্চারণ করলে অথবা মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহন করলে ও লালিত পালিত হলে এবং একটি মুসলিম নামধারণ করলেই মুসলমান হওয়া যায়। তার কাজকর্ম, জীবন-যাপন পদ্ধতি যাই হোক না কেন। এটি খ্রিষ্টানদের একটি আক্বীদা। সাহাবাদের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বাস্তবিকভাবে, তাদের এবং আমাদের কালেমা বোঝার ক্ষেত্রে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ইসলামের পতাকাতলে নিজেকে দাখিলের জন্য প্রত্যেকেরই কালেমাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।”

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহা” এর গুরুত্ব ও মর্যাদা
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহা” এর গুরুত্ব যে কত অপরিসীম, এর মর্যাদা যে কত উচ্চ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ক্ষুদ্র পরিসরে তা বলে শেষ করার মত নয়। তবুও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আমরা এ কালেমার গুরুত্ব এবং মর্যাদা তুলে ধরছি।
১. এটি ইসলামের মূল কালেমা। এর স্বাক্ষ্য দানই ইসলামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা। কেউ বুঝে শুনে এ কালেমার স্বাক্ষ্য দিলে সে হবে মুসলিম, আর অস্বীকার করলে সে হবে কাফির। এ হচ্ছে এমন এক কালেমা যা মানুষের ঈমান এবং কুফরীর মধ্যে পার্থক্য করে দেয়। সবারই একথা জানা আছে যে, একজন অন্য ধর্মাবলম্বী যদি ইসলামে আসতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই এ কালেমার স্বীকৃতি দিতে হয়। বর্তমানে যারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করছে তাদের জন্যও অবশ্যই জরুরী যে তারা বুঝে-শুনে এ কালেমার স্বাক্ষ্য দেবে অন্যথায় তাদেরও মুসলিম দাবী করা বৃথা হবে। রাসূল (সঃ) যখন মুয়ায(রাঃ) কে ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন তখন বলেছিলেন, নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের (ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের) এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ।সুতরাং তুমি প্রথমে তাদেরকে কালেমা ‘র দাওয়াত দিবে। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
২. নাবী-রাসুলদের মূল দাওয়াতই ছিল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহা” এর দিকে আহবান করা, যাদেরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা মানব জাতির হেদায়েতের জন্য পাঠিয়েছিলেন।আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
“আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূল পাঠাইনি তার কাছে এই ওহী ছাড়া যে,আমি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই সুতরাং আমারই ইবাদত কর।” (সূরা, আম্বিয়া ২১:২৫)
সুতরাং এ কালেমার দাওয়াতই সর্বশ্রেষ্ঠ দাওয়াত, এ কালেমাকে মেনে নেয়াই হেদায়েতের রাস্তা গ্রহণ করা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যানকে মেনে নেয়া।
৩. কালেমা ইসলামের মূল ভিত্তি। ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির প্রথম ভিত্তি হচ্ছে শাহাদাতাইন বা দুটি বিষয়ে স্বাক্ষ্য দেয়া। প্রথম যে বিষয়ে স্বাক্ষ্য দিতে হয় তা হচ্ছে। আল্লাহর রাসুল বলেছেন:-“ইসলাম ভিত্তি পাঁচটি। এ স্বাক্ষ্য দেয়া যে, “আল্লাহ ছাড়া কোন হক্ ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসুল। সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, (আল্লাহর) ঘরের হাজ্জ আদায় করা এবং রমযান মাসে সিয়াম পালন করা।” (বুখারী, মুসলিম)
এটা যেহেতু ইসলামের মুল ভিত্তি, এখন কেউ যদি বলে আমি মুসলিম, আমার দ্বীন ইসলাম তাহলে অবশ্যই তাকে এ কালেমার স্বাক্ষ্য জেনে-শুনে দিতে হবে এবং এটাকে দৃঢ়ভাবে গ্রহন করতে হবে।
৪. কালেমা হচ্ছে ঈমানের সর্বোচ্চ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ শাখা। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সঃ) বলেন-
“ঈমানের শাখা সত্তুরটিরও কিছু বেশী। এর সর্বোচ্চ শাখা এ কথা স্বীকার করা । আর এর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়া”। (বুখারী, মুসলিম)
এখন কেউ যদি ঈমান গ্রহন করতে চায় তবে অবশ্যই এ কালেমাকে স্বীকার করতে হবে। আর যারা কুফরীতে নিমজ্জিত থাকতে চায়, তারাই এ কালেমার স্বাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
৫. কালেমা কে মেনে নেয়া এবং সে অনুযায়ী কাজ করা, বান্দার প্রতি আল্লাহর হক্। কারণ এ কালেমা স্বাক্ষ্য দানের মাধ্যমে বান্দাহ্ তাওহীদ কে মেনে নেয়। অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ্কে এক ও একক হিসেবে মেনে নেয় এবং যাবতীয় ইবাদত শুধু তাঁর জন্য নিবেদন করবে এবং তাঁর ইবাদতে কাউকে শরীক করবে না বলে স্বীকৃতি দেয়। রাসূল (সঃ) বলেছেন-
“বান্দার প্রতি আল্লাহর হক্ হচ্ছে তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না।” (মুসলিম, ইফাবা/৫০)
৬. এ কালেমার জন্য আল্লাহতায়ালা মানুষ এবং জ্বিনকে সৃষ্টি করেছেন। কারণ এ কালেমার স্বীকৃতির মাধ্যমে বান্দাহ্ ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর এককত্বকে মেনে নেয়। আল্লাহতায়ালা বলেছেনঃ
“আমি মানুষ এবং জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য”। (যারিয়াত, ৫১:৫৬)
আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেন “আমার (আল্লাহর) একত্বকে মেনে নেয়ার জন্যই আমি তাদের (মানুষ ও জ্বিন) সৃষ্টি করেছি।”
৭. এমন এক মহান কালেমা যার স্বাক্ষ্য স্বয়ং আল্লাহতায়ালা, ফেরেশতা এবং যারা জ্ঞানবান তারা দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা বলেছেনঃ
“আল্লাহ্ স্বাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত কোন হক্ ইলাহ নেই। ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানবান লোকেরা সততা ও ইনসাফের সাথে এ স্বাক্ষ্যই দিচ্ছে যে, প্রকৃতপক্ষে সেই মহা পরাক্রমশালী এবং বিজ্ঞানী ছাড়া কেহই ইলাহ হতে পারে না।” (আল ইমরানঃ ১৮)
আল্লাহ্ বলেছেন যারা জ্ঞানী তারা সততা এবং ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে এ কালেমার স্বাক্ষ্য দেয়। সুতরাং একথা স্পষ্ট যে যারা অজ্ঞ, মূর্খ, জাহেল তারাই এ কালেমার স্বাক্ষ্য দেয়া থেকে বিরত থাকে।
৮. এমন এক কালেমা যে, আসমান-যমীন এবং এবং এর মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা যদি এক পাল্লায় তোলা হয় আর কে অপর পাল্লায় তোলা হয় তবে এ পাল্লাই ভারী হবে।
হাদীসে এসেছে আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেছেন মুসা (আঃ) বলেন,
‘হে আমার রব আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা দ্বারা আমি আপনাকে ডাকতে পারি এবং আপনার যিকর করতে পারি। আলাহ তা’য়ালা বললেন, “হে মুসা! বল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। মুসা (আঃ) বললেন, হে আমার রব আপনার সমস্ত বান্দারাতো ইহা বলে। আল্লাহ আহ্কামুল হাকিমিন, রাব্বুল আলামীন যিনি সব জানেন যেখানে আমরা কিছুই জানিনা, তিনি নাযিল করলেন, “হে মুসা! আমি ছাড়া সাত আকাশ এবং উহার মধ্যে যাহা কিছু আছে এবং সাত যমীন যদি পাল্লার এক দিকে স্থাপন করা হয় এবং অপর দিকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।” কে স্থাপন করা হয় তবে দ্বিতীয় অংশটি ভারী হয়ে যাবে।’ (ইবনে হিব্বানঃ২৩২৩, আল-হাকিম ১/৫২৮)
৯. এ কালেমার স্বীকৃতি দেওয়া না দেওয়ার উপরই নির্ভর করে বান্দার সফলতা ব্যর্র্থতা। যে এ কালেমাকে মনে-প্রানে গ্রহন করল সে জান্নাত লাভ করবে । আর জান্নাত পাওয়া বান্দার অনেক বড় সাফল্য। আল্লাহতায়ালা বলেনঃ
“নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার তলদেশে নদী প্রবাহিত।এটা অনেক বড় সাফল্য।” (সূরা বুরুজ, ৮৫:১১)
আর এ কালেমার স্বাক্ষ্যদানকারী ব্যক্তি যে চুড়ান্ত ব্যর্থতা জাহান্নাম থেকে বেঁচে চুড়ান্ত সফলতা জান্নাত লাভ করবে। এ ব্যাপারে রাসূল (সঃ) বলেনঃ “যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর নিশ্চিত বিশ্বাস নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (মুসলিম, ইফাবা/২৩)
রাসূল (সঃ) আরও বলেন, “আল্লাহতায়ালা ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের আগুন হারাম করে দিয়েছেন যে একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের জন্য- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উচ্চারণ করেছে।” (বুখারী, মুসলিম)
মূলকথা হচ্ছে তাওহীদই ইসলামের শুরু ও শেষ, জাহেরী-বাতেনী এবং মুখ্য উদ্দেশ্য। আর ইহাই সকল রাসূল (আলাইহিস সালাম) এর দাওয়াত ছিল। এ তাওহীদ (কায়েম) এর লক্ষ্যে আল্লাহ্ তা‘আলা মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন, সকল নাবী-রাসূলদের প্রেরণ করেছেন এবং সব আসমানী কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর এ তাওহীদের কারণেই মানুষ মু‘মিন-কাফির, সৌভাগ্য-দূর্ভাগ্যে বিভক্ত হয়েছে। আর তাওহীদই বান্দাদের উপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব। সর্বপ্রথম এর মাধ্যমেই ইসলামে প্রবেশ করে।এবং এ তাওহীদ নিয়েই দুনিয়া ত্যাগ করে।

তাওহীদের উপকারিতা
কালেমা এর স্বীকৃতির মাধ্যমে মূলত তাওহীদের স্বীকৃতি দেয়া হয়। তাওহীদের শাব্দিক অর্থ একীকরণ (কোন কিছু এক করা) অথবা দৃঢ়ভাবে এককত্ব ঘোষণা করা। কিন্তু যখন তৌহিদ শব্দটি আল্লাহর সম্বন্ধে ব্যবহৃত হয় তখন আল্লাহ সম্পর্কিত মানুষের সকল পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কর্মকান্ডে আল্লাহর এককত্ব উপলদ্ধি করা ও তা নিরবচ্ছিন্নভাবে অক্ষুন্ন রাখা বুঝায়। মানুষের একক ও সমষ্টিগত জীবনে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”’র স্বাক্ষ্য দানের মাধ্যমে যখন সত্যিকার তাওহীদ আসবে তখন অতীব সুন্দর ফল পাওয়া যাবে। ঐ সমস্ত লাভের মধ্যে আছেঃ
১. তাওহীদ মানুষকে অপরের দাসত্ব থেকে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে নত হওয়া এবং ঐ সমস্ত সৃষ্টি যারা কোন কিছু সৃষ্টি করে না বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়েছে, যাদের কোন ক্ষমতা নেই নিজেদের ক্ষতি ঠেকাতে বা ভাল করতে, না তারা মৃত্যু দেয়ার অধিকারী, না কবর থেকে বাঁচানোর ক্ষমতার অধিকারী, তাওহীদ ঐ সমস্ত কিছুর ইবাদত করা হতে মানুষকে মুক্তি দেয়; অপরের গোলামী করা হতে বাঁচিয়ে ঐ এক আল্লাহর দাসত্বে লাগিয়ে দেয় যিনি তার প্রতিপালক ও স্রষ্টা। তার বুদ্ধিকে নানা ধরনের কুসংস্কার ও মিথ্যা ধারণা হতে স্বাধীন করে। এজন্য কুরআন পাকে দেখা যায় মুশরিকদের নেতারা ও অজ্ঞ সীমালঙ্ঘনকারীরা সর্বদাই সমস্ত নবীদের দাওয়াতের বিরোধিতা করেছে এবং বিশেষভাবে আমাদের রাসূল (সঃ)-এর দাওয়াতের কারণ তারা বুঝত যে যখনই কেউ বলবে কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তখনই সে মানুষের গোলামী করা হতে স্বাধীন হয়ে যাবে এবং সে অত্যাচারের বেড়াজাল ছিড়ে ফেলবে, মুমিনদের কপাল উঁচু হবে এবং তারা বিশ্বজগতের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে তা নত করবে না।
২. তাওহীদ সঠিক ব্যক্তিত্ব গড়তে সহায়তা করে। মানুষ এতে সঠিকভাবে জীবন গঠন করতে পারে এবং সত্যিকারের দিক নির্দেশনা পায়। তার লক্ষ্য বস্তুকে নির্দিষ্ট করে দেয়। কারণ সে বুঝে এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপায় নাই। ফলে তাঁর দিকে গোপনে ও প্রকাশ্যে মুখ ফেরাতে পারে। সুখে ও দুঃখে তাঁকে ডাকতে পারে। অন্যদিকে মুশরিকদের আত্মা নানা ধরনের রব ও উপাস্যের প্রতি বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে। ফলে একবার সে জীবিতদের দিকে মুখ ঘোরায়, আবার সে মৃতদের দিকে ঘুরে। এ কারণেই ইউসুফ (আঃ) বলেছেনঃ
“হে আমার জেলের সাথীদ্বয়! নানা ধরনের রবই উত্তম, না এক আল্লাহ যিনি একক এবং সর্বোচ্চ শক্তিধর।” (সুরা ইউসুফঃ ৩৯)
তাই মুমিন এক আল্লাহর ইবাদত করেন। তিনি জানেন কি করলে তার রব খুশী হবেন, আর কি করলে তিনি নারাজ হবেন। তাই যে কাজে তিনি খুশী হন তাই করতে থাকেন। ফলে তার অন্তর শান্ত হয়ে যায়। আর মুশরিক নানা ধরনের উপাস্যের উপাসনা করে। কোনটা তাকে ডানে নিয়ে যায়, কোনটা বামে। আর তার মাঝে পড়ে সে হয় কিংকর্তব্যবিমূঢ়।এতে তার মনে কোন শান্তি থাকে না।
৩. তাওহীদ হচ্ছে মানুষের জীবনে নিরাপত্তার ভিত্তি। কারণ, এর দ্বারাই সে নিরাপত্তা ও শান্তি পায়। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। তা ভয়ের সমস্ত দ্বার বন্ধ করে দেয়, যেমন রিযিকের ব্যাপারে, জানের ব্যাপারে, পরিজনের জন্য, মানুষ হতে ভয়, জিন হতে, মৃত্যু হতে এবং অন্যান্য ভয়-ভীতি হতেও। একত্ববাদী মুমিন আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। অন্যেরা যখন ভয়ের মধ্যে থাকে তখন তাকে দেখবে নির্ভীক। যখন মানুষ চিন্তা পেরেশানীতে জর্জরিত, তখন সে অবিচলিত থাকে।এদিকে নির্দেশ করে কুরআন পাক বলেনঃ
“যারা ঈমান এনেছে এবং তার সাথে র্শিককে জড়িত করেননি, তাদের জন্যই রয়েছে শান্তি এবং তাঁরাই হচ্ছে হেদায়াতপ্রাপ্ত।” (সুরা আনআমঃ ৮২)
আর এই নিরাপত্তা মানুষের অন্তরের অন্তস্থল হতে নির্গত হয়। কোন প্রহরীর প্রহরায় হয় না। এ হল দুনিয়ার নিরাপত্তা। আর আখিরাতের নিরাপত্তা তো আরও বড় এবং চিরস্থায়ী। কারণ তারা আল্লাহর জন্য এখলাছের সাথে ইবাদত করেছে এবং তাদের একত্ববাদের সাথে কোন র্শিক মিশায়নি। কারণ র্শিকই হচ্ছে সবচেয়ে বড় অত্যাচার।
৪. তাওহীদ হচ্ছে মানুষের মনের শক্তির উৎস। তা তাকে মানসিক শক্তি যোগায়। ফলে তার অন্তর আল্লাহ্ হতে প্রাপ্তির আশায় ভরে যায়। তার উপর বিশ্বাস জন্মে এবং তাঁর উপর ভরসা করে, তাঁর বিচারে মন খুশী থাকে, তাঁর হতে প্রদত্ত বিপদে সহ্য ক্ষমতা আসে। সৃষ্টি থেকে সে মুখ ঘুরাতে পারে, সে পাহাড়ের মত অটল হয়ে যায়। যখনই সে কোন বিপদে পতিত হয়, তখনই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহকে ডাকতে থাকে। সে কখনও মাজারে মৃতের কাছে ফরিয়াদ করতে যায় না। তাদের নিদর্শন হচ্ছে নবী (সঃ)-এর নিম্নোক্ত হাদীসেঃ
“যখন কোন কিছু চাও শুধু আল্লাহর কাছেই চাও, যখন কোন সাহায্য চাও তাঁর কাছেই চাও।” (তিরমিযী, হাসান, ছহীহ)।
তাঁরা সাথে সাথে আল্লাহ্ পাকের ঐ কথার উপর আমল করে-
“যখন আল্লাহ পাক তোমাকে কোন বিপদ স্পর্শ করান, তখন তিনি ছাড়া কেউ তাকে দূর করার নেই।” (সুরা আনআমঃ ১৭)
৫. তাওহীদ হচ্ছে ভ্রাতৃত্ব এবং একতার বন্ধনের মূল। কারণ তা কখনই এমন অনুমতি দেয় না যে, আল্লাহকে ছেড়ে একদল লোক অপর দলকে রব হিসেবে মানবে। কারণ, উপাসনা করতে হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং সমস্ত মানুষের ইবাদত পাওয়ার যোগ্যতা একমাত্র তিনিই রাখেন। আর সমস্ত আবেদদের মুকুট হচ্ছেন মুহাম্মদ (সঃ) যাকে আল্লাহ্ নির্বাচন করেছেন সকলের মধ্য হতে।

“‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”এর ফযীলত
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর স্বাক্ষ্য যে ব্যক্তি দেয় তিনি মুসলিম, সর্বোত্তম জিনিস ঈমান লাভ করে। সে হয় অনুগ্রহ লাভের যোগ্য এক আল্লাহর বান্দা।‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর অনেক ফযীলত। সংক্ষিপ্ত ভাবে এখানে কিছু ফযীলতের কথা আমরা তুলে ধরছি-
মানুষের জীবনের চুড়ান্ত সফলতা হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা। এ কালেমা জান্নাতে প্রবেশ করায়। আল্লাহর রাসুল বলেন,
“যে ব্যক্তি মারা গেল এ অবস্থায় যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ হক্ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম হা/২৬)
রাসুল (সঃ) আর ও বলেন,
“যে ব্যক্তি সত্যতার সাথে খাঁটি অন্তরে বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে”। (মুসলিম)
তবে অবশ্যই এর জন্য শর্ত হচ্ছে বান্দাকে শিরক মুক্ত থাকতে হবে, যাবতীয় ইবাদত স্রেফ আল্লাহর জন্য নিবেদন করতে হবে। কারণ আল্লাহতা‘য়ালা বলেনঃ
“কেহ আল্লাহর সাথে শরীক করলে আল্লাহ তাঁর জন্য জান্নাতকে অবশ্যই হারাম করে দিবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম। যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।” (সূরা-মায়েদা, ৫:৭২)
মানুষের চুড়ান্ত ব্যর্থতা হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী হওয়া। যে ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে সে ধ্বংসের গহবরে পড়বে।এমন মহান কালেমা যে তা জাহান্নামকে হারাম করে দেয়।
আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেন-
“যে কেউ অন্তর হতে সত্য সহকারে এ কালেমার স্বাক্ষ্য প্রদান করবে যে, (আল্লাহ ছাড়া কোন হক্ ইলাহ নেই) এবং মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর রাসুল আল্লাহ তাঁর উপর জাহান্নমের আগুন কে হারাম করে দিবেন।” (বুখারী,মুসলিম)
কিয়ামতের কঠিন এবং ভয়াবহ মূহুর্তে এ কালিমার স্বাক্ষ্যদানকারীর জন্য নবী (সঃ) সুপারিশ করবেন। প্রিয় নবী (সঃ)এরশাদ করেন-
“আমার শাফায়াত পেয়ে সর্বাধিক সাফল্য লাভ করবে ঐ ব্যক্তি যে তার অন্তর থেকে খালেসভাবে বলবে- (বুখারী, কিতাবুল ইলম)
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর যিকর করতে সমস্ত মাখলুক আদিষ্ট । এ কালেমার যিকির সর্বোত্তম যিকির। নবী (সঃ)বলেন-
“সর্বোত্তম যিকির হচ্ছে-“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”।(সহীহ সুনানে তিরমিজি লিল আলবানী ৩/২৬৯৪)
এ কালেমা যে স্বীকার করে নেবে এবং শিরক মুক্ত থাকবে সে নিরাপত্তা লাভ করবে। প্রিয় নবী (সঃ) বলেন,
“যে ব্যক্তি বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” আর আল্লাহ ছাড়া যার ইবাদত করা হয় তা সবই অস্বীকার (বর্জন)করে তার সম্পদ এবং রক্ত হারাম। আর তার হিসাব আল্লাহর উপর।” (মুসলিম)
আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ দেয় এবং গুনাহ মাফ করায়। শেখ আব্দুল্লাহ খৈয়্যাথ দালিলুর মুসলিম ফি-এ তেক্কাদ ওয়া তাথহীর-কিতাবে বলেন- মানুষ প্রকৃতিগত কারণে এবং মাসুম না হওয়ার কারণে মাঝে মাঝে পদলিত হয়। ফলে আল্লাহ পাকের বিরুদ্ধে পাপের মধ্যে লিপ্ত হয়। যদি সে র্শিক হতে বেঁচে খালেছ তাওহীদের অধিকারী হয়, তবে অবশ্যই তার একত্ববাদ শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য এবং এখলাস থাকবে বলার মধ্যে। ফলে এটা তার সবচেয়ে বড় কারণ হবে সুখের জন্য এবং তার গুনাহ মাফের জন্য এবং পাপকে দূরীভূত করার জন্য; যা নবী (সঃ)-এর হাদীসে এসেছেঃ
“যে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন উপাস্য নাই। তিনি এক এবং অদ্বিতীয় এবং মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর বান্দা এবং তাঁর প্রেরিত রাসূল। আর ঈসা (আঃ) আল্লাহর দাস এবং আল্লাহ তা’আলার ঐ কথা যা মরিয়ম (আঃ)- এর প্রতি প্রেরণ করেছিলেন এবং তিনি ঈসা (আঃ) আল্লাহ্ হতে প্রেরিত রূহ, জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য- তবে তাকে আল্লাহ পাক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, সে যে কোন আমলই করুক না কেন।” (বুখারী ও মুসলিম)
এই সমস্ত সাক্ষ্য যখন কোন মুসলমান দিবে, তখন তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা ওয়াজেব হবে, যা চিরস্থায়ী নেয়ামতের জায়গা, যদিও তার কোন কোন আমলে দোষ থাকে এবং কমতি থাকে। হাদীসে কুদসীতে পাওয়া যায় আল্লাহ পাক বলেনঃ
“হে আদমের সন্তান, যদি তুমি কোন র্শিক না করে আমার সামনে দুনিয়া ভর্তি পাপরাশি সহ হাজির হও, তবে আমি তোমাকে দুনিয়া ভর্তি ক্ষমা নিয়ে সাক্ষাৎ করব।” (তিরমিযী)
অর্থাৎ, যদি আমার কাছে আস দুনিয়া পূর্ণ গুণাহ এবং পাপ নিয়ে, কিন্ত এমতাবস্থায় যে তুমি একমাত্র তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করেছ, তবে আমি অবশ্যই তোমার গুনাহখাতা মাফ করে দিব। অন্য হাদীসে আছেঃ
“যে আল্লাহ পাকের সাথে কোন র্শিক করা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করে অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যে র্শিকের উপরে মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম)
এই সমস্ত হাদীসসমূহ তাওহীদের ফযীলত প্রকাশ করছে। মানুষের সুখের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় কাজ। তার গুনাহ মাফের জন্য এবং তার ভুলভ্রান্তি মুছে ফেলার জন্য এটাই সবচেয়ে বড় অছিলা।

নিজ জীবনে তাওহীদ বাস্তবায়ন বা তাওহীদ প্রতিষ্ঠা
তাওহীদের বাস্তবায়ন হলঃ তাওহীদকে র্শিক, বিদ্আত ও পাপাচার মুক্ত করা।তাওহীদকে কলুষ মুক্ত করা দু’রকমঃ
ওয়াজিব ও মান্দুব বা মুস্তাহাব।

ওয়াজিব তাওহীদ তিন বিষয়ের মাধ্যমে হয়ঃ
• তাওহীদকে এমন র্শিক, হতে মুক্ত করা, যা মূল তাওহীদের পরিপন্থী।
• তাওহীদকে এমন বিদ্আত হতে মুক্ত করা যা তাওহীদের পরিপূর্ণতার পরিপন্থী বা মূল তাওহীদের পরিপন্থী অথবা সে বিদ্আত যদি কুফুরী পর্যায়ের হয়ে থাকে।
• তাওহীদকে এমন পাপকর্ম হতে মুক্ত করা যা তাওহীদের (অর্জিত) পূণ্য হ্রাস করে এবং তাওহীদে কু-প্রভাব ফেলে।
আর মান্দুব (তাওহীদ) হলো মুস্তাহাব কাজ। যেমন নিম্নরূপঃ
• ইহ্সানের (ইখলাসের) পূর্ণ বাস্তবায়ন।
• ইয়াকীনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা।
• আল্লাহ ছাড়া কারো নিকট অভিযোগ না করে পূর্ণ ধৈর্য ধারণ করা।
• সৃষ্টি জীব হতে মুক্ত হয়ে শুধু মাত্র আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়াই যথেষ্ঠ মনে করা।
• কিছু বৈধ উপকরণ ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুলের প্রকাশ। যেমন-ঝাড় ফুঁক ও দাগা (রোগ
• নিরাময়ের জন্য) ছেড়ে দেওয়া।
• নফল ইবাদাত করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে পূর্ণ ভালবাসা লাভ করা।
অতঃপর যারা তাওহীদকে বাস্তবায়ন করবে উপরে বর্ণনানুপাতে এবং বড় র্শিক হতে বেঁচে থাকবে, তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ী বসবাস করা হতে পরিত্রান লাভ করবে। আর যারা বড় ও ছোট র্শিক করা হতে বেঁচে থাকবে এবং বড় ও ছোট পাপ হতে দূরে থাকবে, তাদের জন্য দুনিয়াতে ও আখিরাতে পূর্ণ নিরাপত্তা রয়েছে।আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাথে র্শিকের অপরাধ ক্ষমা করবেন না। আর ইহা ব্যতীত যাকে ইচ্ছা করেন (তার অন্যান্য অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত, ৪৮)
তিনি আরো বলেনঃ
“যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে র্শিকের সাথে মিশ্রিত করেনা, তাদের জন্যই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী।” (সূরা, আল-আনআম, আয়াত-৮২)

Advertisements
This entry was posted in ঈমান, তাওহীদ and tagged , , , , , . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s