ভ্রুণতত্ব-জাকির নায়েক


মুসলমানরা উত্তর চায়ঃ

একদল মুসলিম পণ্ডিত ইয়েমেনের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ শেখ আবদুল মজীদ যিন্দানীর নেতৃত্বে পবিত্র কোরআন মজীদ এবং বিশুদ্ধ হাদীস থেকে ভ্রূণতত্ব সহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করে তা ইংরেজীতে অনুবাদ করেছেন।ভ্রূণতত্ব বলতে বুঝায়,জন্মের পূর্বে মানুষের বিকাশ সম্পর্কিত বিদ্যা।এ ক্ষেত্রে তারা কোরআনের নিম্নোক্ত উপদেশকে সামনে রেখেছেন।
“অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর,যদি তোমাদের জানা না থাকে – সূরা আল নহল -৪৩ -সূরা আল আম্বিয়া -৭
কোরআন এবং হাদীসে ভ্রূণতত্ব সম্প্রর্কিত বর্ণনাগুলোকে একত্রিত করে ইংরেজীতে অনুবাদের পর কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান যুগে ভ্রূণতত্বে সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডঃ কেইথ মুরকে সেগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য করতে বলা হয়।ডঃ মুর ভালভাবে সেগুলো অধ্যায়নের পা বলেনঃ কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসে ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে যা এসেছে,ভ্রূণবিদ্যার ক্ষেত্রে আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে সেগুলোর অধিকাংশের পূর্ণ মিল রয়েছে,কোন বেমিল বা বৈসাদৃশ্য নেই।তিনি কিছু সংখ্যক আয়াতের মর্মের যথার্থতা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি।তিনি সেগুলোর বক্তব্য সত্য না মিথ্যা বলতে পারছেন না।কেননা সে তথ্যগুলো সম্পর্কে তিনি নিজেও ওয়াকিফহাল নন।আধুনিক ভ্রূণ বিদ্যায় বা লেখায় সেগুলোর কোন উল্লেখ দেখা যায়না।এরকম একটি আয়াত হলঃ


“পড় তোমার প্রভূর নামে,যিনি সৃষ্টি করেছেন।তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।”সূরা আলাক -১-২

আরবী ভাষায় (আলাক্ব )শব্দের অর্থ হল,জমাট রক্ত।এর অপর অর্থ হল,দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে এমন আঠলো জিনিস।যেমন.জোঁক কামড় দিয়ে আটকে থাকে।


ডঃমুর জানেন না যে,প্রাথমিক অবস্থায় ভ্রূণকে কি জোঁকের মত দেখায়?তিনি এটা যাঁচাই করার জন্য এক শক্তিশালী মাইক্রোস্কোফের সাহায্যে ভ্রূণের প্রাথমিক অবস্থা গবেষণা করেন এবং বলেন যে,ভ্রূণের চিত্র দেখতে জোঁকের আকৃতির মত।তিনি এ দু’টোর মধ্যে অদ্ভুত সামঞ্জস্য দেখে অভিভূত হয়ে যান।এবইভাবে,তিনি ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে কোরআন থেকে আরো বেশী জ্ঞান অর্জন করেন যা তাঁর জানা ছিল না।ডঃমুর কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত ভ্রণতত্ব সম্পর্কিত ৮০টি প্রশ্নের জবাব দেন।তিনি বলেন,কোরআন ও হাদীসে উল্লেখিত তথ্যগুলো ভ্রূনতত্ব সম্পর্কে সর্বশেষ আবিষ্কৃত তথ্যের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল।তিনি আরো বলেন,আমাকে যদি আজ থেকে ৩০ বছর আগে এ সকল প্রশ্ন করা হত,তাহলে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের অভাবে আমি সে গুলোর অর্ধেকেরও উত্তর দিতে পারতাম না।
তিনি সৌদী আরবের দাম্মামে,১৯৮১ সালে অনুষ্ঠিত এক চিকিৎসা সম্মেলনে বলেন,কোরআনে মানুষের বিকাশ সম্পর্কিত বর্ণনার ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।এটা আমার কাছে পরিষ্কার যে,মোহাম্মদের কাছে এ সকল বর্ণনা আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে।কেননা,পরবর্তী বহু শতাব্দী পরেও এর অধিকাংশ জ্ঞান আবিষ্কৃত হয়নি।এর দ্বারা আমার কাছে একথা প্রমাণিত যে,মোহাম্মদ অবশ্যই আল্লাহর নবী।
ডঃকেইথ মুর আগে ‘The Developing Human’ নামক একটা বই লিখেছিলেন।কিন্তু কোরআন থেকে জ্ঞান সংগ্রহের পর তিনি তার ঐ বইয়ের ৩য় সংস্করণ প্রকাশ করেন।বইটি একক লেখকের সর্বোত্তম চিকিৎসা বই হিসেবে পুনষ্কার লাভ করে।বইটি বিশ্বের বড় বড় অনেক ভাষায় অনুদিত হয়েছে এবং ১ম বর্ষের মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের জন্য ভ্রূণবিদ্যায় পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
আমেরিকার হিউষ্টনে বেলর কলেজ অব মেডিসিনের ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃজোয়লিগ সিম্পসন ঘোসণা করেন যে,‘৭ম শতাব্দীতে,বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক গৃহীত হয়নি।কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল যে,ধর্মের (ইসলামের )সাথে জন্ম সংক্রান্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোন বিরোধ নেই।অধিকন্তু ধর্ম অর্থাৎ ইসলাম তার অবতীর্ণ জ্ঞান দিয়ে কিছু প্রচলিত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গীকে পথ প্রদর্শন করতে পারে।——– কোরআনের বর্ণনাগুলো পরবতী শতাব্দী গুলোতে যর্থাথ প্রমাণিত হয়েছে।এর দ্বারা একথার সমর্থন পাওয়া যায় যে, কোরআনের জ্ঞান আল্লাহ প্রদত্ত।”

মেরুদন্ড ও পাঁজরের মাঝ থেকে নিক্ষিপ্ত ফোঁটা :

মহান আল্লাহ বলেনঃ
অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে।সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।এটা নির্গত হয় মেরুদণ্ড বক্ষপাঁজরের মাঝ থেকে।(সূরা তারেক -৫-৭)
জন্মপূর্ব বিকাশের স্তরে,পুরুষ ও নারীর জনেন্দ্রীয়গুলো,অর্থাৎ পুরুষের অন্ডকোষ এবং নারীর ডিম্বাশয়,কিডনীর কাছে মেরুদণ্ড স্তম্ভ এবং ১১শ ও ১২শ বক্ষপাঁজরের মাঝে বিকশিত হয়।তারপর সেগুলো নীচে নেমে আসে।নারীর ডিম্বাশয় তলপেটে এসে থেমে যায়।
কিন্তু জন্মের আগ পর্যন্ত পুরুষের অণ্ডকোষ উরুর গোড়ার নালী দিয়ে অণ্ডকোষের থলিতে নেমে আসার ধারা অব্যাহত থাকে।এমনকি জনেন্দ্রীয় নীচে আসার পর কৈশোরেও গুলো পেটের বড় ধমনী থেকে স্নায়ু ও রক্ত সরবরাহ লাভ করে।আর সেগুলোর অবস্থান হল মেরুদণ্ড এবং বক্ষপাঁজরের মাঝখানে।রসবাগী নালী এবং শিরাগুলোও একই এলাকার গিয়ে মিলিত হয়।
শুক্র সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থ
পবিত্র কোরআন মজীদ কমপক্ষে ১১ জায়গায় মানুষকে নোতফাহ (শুক্র) থেকে সৃষ্টির কথা বলেছে।‘নোতফাহ’ মানে সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থ কিংবা পেয়ালার নীচে অবশিষ্ট সামান্য পরিমাণ তরল জিনিস।এ বিষয়ে কোরআন মজীদের নিম্নোক্ত সূরা ও আয়াতে উল্লেখ এসেছেঃ
২২:৫; ২৩:১৩;১৬:৪; ১৮:৩৭; ৩৫:১১; ৩৫:৭৭; ৪০:৬৭; ৫৩:৪৬; ৭৫:৩৭;৭৬:২; ৮০:১৯
সাম্প্রতিককালে বিজ্ঞান একথা নিশ্চিত করেছে যে,গড়ে ৩ মিলিয়ন শুক্রকীট থেকে ১টি মাত্র শুক্রকীটই ডিম নিষিক্তকরণের জন্য দরকার হয়।এর অপর অর্থ হল উৎক্ষিপ্ত শুক্রকীটের ০.০০০০৩% অংশই কেবল নিষিক্ত করণের জন্য দরকার ।

সুলালাহ – তরল পদার্থের নির্যাস:

মহান আল্লাহ বলেনঃ
“অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেছেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।’সূরা আস সাজদাহ – ৮
‘সুলালাহ’শব্দটির অর্থ হল,কোন জিনিসের নির্যাস।আমরা এখন জানি যে,মানুষের দেহে তৈরি কয়েক মিলিয়ন শুক্রকীট থেকে ডিমে প্রবেশকারী একটি মাত্র শুক্রকীটই নিষিক্ত করণের জন্য দরকার।সে কয়েক মিলিয়ন থেকে ১টি মাত্র শুক্রকীটকে কোরআন ‘সুলালাহ’হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


‘সুলালাহ’শব্দের আরেকটি ভিন্ন অর্থ হল, তরল পদার্থ থেকে সুষম উপায়ে বের বরে আনা।তরল পদার্থ বলতে বুঝায়,শুক্রধারণকারী নারী- পুরুষের বীজ সম্পর্কিত পদার্থ।নিষিক্ত করণ প্রক্রিয়ার আওতায় ডিম ও শুক্রকে সুষম উপায়ে বের করে আনা হয়।

নোতফাতুন আমসাজ- মিশ্রিত তরল পদার্থ:

মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ
‘আমরা মানুষকে মিশ্রিত নোতফা থেকে সৃষ্টি করেছি।সূরা দাহার -২
এখানে ব্যবহূত ‘নোতফাতুন আমসাজ’ এর অর্থ হল,মিশ্রিত তরল পদার্থ বলতে বুঝায় পুংলিঙ্গ ও স্ত্রী লিঙ্গ জাতীয় উপাদান বা তরল পদার্থ।নারী ও পুরুষের শুক্র মিশ্রিত হওয়ার পর ভ্রূণ তখন পর্যন্ত নোতফা আকারেই বিদ্যমান থাকে।মিশ্র তরল পদার্থ বলতে শুক্রকীট জাতীয় তরল পদার্থকেও বুঝাতে পারে যা বিভিন্ন গ্রহ্নির নিঃসৃত রস থেকে এসে থাকে।
তাই ‘নোতফাতুন আমসাজ’মানে দাঁড়ায়,নারী ও পুরুষের ক্ষুদ্র পরিমাণ মিশ্র শুক্র এবং চারদিকের তরল পদার্থের অংশ বিশেষ।

লিঙ্গ নির্ধারণ:

ভ্রূণের লিঙ্গ শুক্রের আকৃতি দ্বারা নির্ধারিত হয়,ডিম দ্বারা নয়।শিশু পুরুষ লিঙ্গ বা স্ত্রী লিঙ্গ যাই হোক না কেন তা নির্ভর করে xx অথবা xy জাতীয় ৩৩ জোড়া ক্রমোজমের উপর।যদি x বহনকারী শুক্র ডিমকে করে,তাহলে,ভ্রূণ হবে স্ত্রীলিঙ্গ এবং যদি তা y বহনকারী শুক্র হয়,তাহলে,ভ্রূণ হবে পুংলিঙ্গ।এ মর্মে আল্লাহ বলেনঃ
‘এবং তিনিই সুষ্টি করেন যুগল পুরুষ ও নারী।এক বিন্দু বীর্য থেকে যখন স্থলিত করা হয়।সূরা নাজম ৪৫-৪৬
এখানেও ‘নোতফা’শব্দটি ব্যবহূত হয়েছে,যার অর্থ হল,সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থ।আর (আরবী ) মানে ,স্থলিত বা নিক্ষিপ্ত।সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে,‘নোতফা’ দ্বারা শুক্রকেই বুঝানো হয়েছে।কেননা,শুক্রই স্থলিত বা নিক্ষিপ্ত হয়।
আল্লাহ আরো বলেনঃ
“সে কি স্থলিত বীর্য ছিলনা ?অতঃপর সে ছিল রক্তপিণ্ড,অতঃপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল নর ও নারী।” -সূরা কেয়ামাহ – ৩৭-৩৯
এখানে পূনরায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক ফোঁটা শুক্র যা (আরবী) পুরুষ থেকে নির্গত ও নিক্ষিপ্ত হয় সেটাই ভ্রণের লিঙ্গ নির্ধারন করে ।
পাক ভারত উপমহাদেশের শ্বাশুড়ীরা প্রায়ই নাতী ছেলে কামনা করে এবং নাতিন কন্যা হলে হলে সে জন্য বৌমাকে দোষারূপ করে।আফসোস !তারা যদি জানত যে,লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য পুরুষের শুক্রই দায়ী,নারীর ডিম নয়।যদি তারা দোষারূপ করতেই চায়,তাহলে ,তাদের ছেলেদেরকেই দোষারূপ করা উচিত,বৌ মাদেরকে নয়।কেননা কোরআন এবং বিজ্ঞান উভয়েই লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য পুরূষের শুক্রকেই দায়ী করে।

ভ্রূণ অন্ধকারের তিন পর্দার আড়ালে সুসংরক্ষিত:

মহান কুদরতে অধিকারী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন
‘তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে।সূরা আয যুমার -৬
অধ্যাপক কেইথ মুরের মতে, কোরআনে উল্লেখিত অন্ধকারের তিনটি পর্দা বলতে বুঝায়ঃ
১।মাতৃগর্ভের সম্মুখ দেয়াল
২।জরায়ুর দেয়াল
৩।জরায়ুতে ভ্রূণকে আবৃতকারী গর্ভফুলের আভ্যন্তরীণ অতি পাতলা পর্দা।

ভ্রূণের পর্যায়সমূহ:

আল্লাহ বলেনঃ
“আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি।অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত,এরপর সেই মাংসপিণ্ড থেকে হাড় সৃষ্টি করেছি,অতঃপর হাড়কে গোশত দ্বারা আবৃত করেছি।অবশেষে তাকে এক নতুন সৃষ্টিরূপে দাঁড় করিয়েছি।নিপুণতম সুষ্টির্কতা আল্লাহ কত কল্যাণময় ? সূরা আল মোমিনূন- ১২-১৪


এ আয়াতদ্বয়ে মহান স্রষ্টা বলেন তিনি মানুষকে ক্ষুদ্র পরিমাণ তরল পদার্থ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং একে এক সুরক্ষিত বিশ্রামের স্থানে সংরক্ষিত করেছেন।এ অর্থ বুঝানোর লক্ষ্যে তিনি আরবী শব্দ (ক্বারাবীন কামীন)ব্যবহার করেছেন। জরায়ু সর্বদাই পেছন দিক থেকে মেরুদণ্ড দ্বারা সংরক্ষিত। মেরুদণ্ড আবার পেছনের মাংসপেশী দ্বারা সমর্থিত।তাছাড়া ও ভ্রূণ গর্ভফুলের রস সম্পন্ন গর্ভথলি দ্বারা সংরক্ষিত।এর দ্বারা বুঝা যায় যে,ভ্রূণ একটি সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান করে।
এই স্বল্প্ পরিমাণ তরল পর্দাথ পরে (আলাক্ব ) বা মাংশপেশীতে পরিণত হয়।‘আলাকা’শব্দের অর্থ হল,যা আটকে থাকে।ভিন্ন কথায় বলা যায়,এটা যেন ‘জোঁক সদৃশ নির্যাস।’এই উভয় অর্থই বৈজ্ঞানিকভাবে গৃহীত।প্রাথমিক পর্যায়ে,ভ্রূণ দেয়ালে আটকে থাকে এবং দেখতে জোঁকের আকৃতি মনে হয়।আর এটা রক্তচোষা জোঁকের মত আচরণ করে।মূলত তা মায়ের গর্ভফুলের মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ লাভ করে। (আলাক্ব) শব্দের ৩য় আরেকটি অর্থ হল,রক্তপিণ্ড।গর্ভ রক্তপিণ্ডের স্তরে থাকা অবস্থায় অর্থাৎ গর্ভেব ৩য় ও ৪র্থ সপ্তাহে রক্তপিণ্ডে বদ্ধ থলিতে অবস্থান করে।ফলে,ভ্রূণ রক্তপিণ্ডের আকার গ্রহণ করে এবং একই সময়ে তা জোঁকের আকৃতিও ধারণা করে।কোরআনের জ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের সত্য লাভের জন্য মানুষের চেষ্টাকে তুলনা করা যায়।


১৬৭৭ সালে, সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী হাম এবং লিউওয়েন হোয়েক মাইক্রোষ্কোপ দ্বারা মানবীয় শুক্র কোষ পর্যবেক্ষণ করেন।তারা ভেবেছিলেন যে,শুত্রুকোষ যা ক্ষুদ্রকৃতির মানুষ হিসেবে বিবেচ্য তা নতুন শিশু জন্মের জন্য জরায়ুতে বিকাশ লাভ করে।এটা perforation তত্ব হিসেবে পরিচিত।কিন্তু বিজ্ঞানীরা যখন আবিষ্কার করলেন যে শুক্রের চাইতে ডিম বড়,তখন বিজ্ঞানী ডি গ্রাফ সহ অন্যরা ভাবলেন যে,ডিমের মধ্যে ভ্রূণ ক্ষুদ্রাকৃতিতে অবস্থান করে।পরবর্তীতে অর্থাৎ ১৮০০ শতাব্দীতে,বিজ্ঞানী মাওপেরটুইস মাতা পিতার দ্বৈত উওরাধিকার তত্ব (theory of biparental inheritence)প্রচার করেন।(আলাক্বা) পরে (মুদগাহ) -য় রূপান্তরিত হয়। মুদগাহ’র অর্থ হল, ১। যা দাঁত দিয়ে চিবানো হয় এবং ২। যা আঠালো ও ছোট এবং যা মুখে দেয়া হয় । যেমন গাম । এই দুটিই ব্যাখ্যাই বৈজ্ঞানিক ভাবে বিশুদ্ধ । অধ্যাপক কেইথ মুর প্লাষ্টার সীল সিল নিয়ে একে ভ্রূণের প্রাথমিক পর্যায়ের আকৃতির মত বানিয়ে দাঁত চিবান এবং একে মুগদায় পরিনত করার চেষ্টা করেন। তিনি এর মাধ্যমে এর সাথে প্রাথমিক পর্যায়ের ভ্রূণের ছবিকে তুলনা করেন। তার চিবানো ঐ প্লাষ্টার সীল somites এর মত দেখা গেল যা মেরুদণ্ডের প্রাথমিক গঠন স্তর।


এই (মুদগাহ) পরবর্তীতে (ইযাম) বা হাড়ে পরিনত হয়।বাস্তবেই হাড় কে গোশত বা মাংসপেশী পরানো হয়েছে।আল্লাহ পরে একে অন্য সৃষ্টিতে পরিনত করেন।
অধ্যাপক মশর্অল জনসন যুক্তরাষ্টের একজন খাতনামা বিজ্ঞানী Anatomy dept-এর প্রধান এবং ফিলাডেলফিয়ার থমাস জেফারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দানিয়েল ইনিষ্টিটিউটের পরিচালক।তাকে ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে কোরআনের এই আয়াতের উপর মন্তব্য করার অনুরোধ করা হলে, তিনি প্রথমে বলেনঃ ভ্রূণের পর্যায় গুলো সম্পর্কে কোরআনের বর্ণনা গুলো শুধুমাত্র সমকালের সংঘটিত কোন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাবেনা। সম্ভবত মোহাম্মদ (ছঃ) এর নিকট খুবই শক্তিশালী কোন মাইক্রোস্কোপ ছিল। যখন তকে স্মরন করিয়ে দেয়া হলো যে, কোরআন ১৪০০ বছর আগে অবতীর্ণ হয়েছে, আর মাইক্রোস্কোপ আবিস্কার হয়েছে নবী মোহাম্মদ (ছঃ) এর বহু শতাব্দী পর।তখন তিনি হেসে দেন, এবং স্বীকার করেন যে, প্রথম দিকে আবিস্কার মাইক্রোস্কোপ ১০ বারের বেশী সময়ের ক্ষুদ্র জিনিসকে বড় করে দেখতে পারেনী এবং যাও দেখিয়েছে, তাও আবার পরিস্কার ছবি দেখাতে পারেনি।তারপর তিনি বলেন ,মোহাম্মদ (ছঃ) যখন কোরআন পাঠ করেন, তখন তার উপর ঐশী বাণী নাযিল হওয়ার বিষয়ে কোন বিরোধ নেই।
ডঃ কেইথ মুর বলেন বিশ্বে গৃহীত আধুনিক কালের ভ্রূণ বিষয়ক উন্নয়ন স্তর সহজে বোধগম্য নয়।কেননা এতে স্তর গুলোকে সংখ্যাতাত্বিক ভাবে পেশ করা হয়েছে। যেমন , ১ম স্তর ইত্যাদি। কিন্তু কোরআনে বর্ণিত স্তরগুলো পার্থক্য বোধক এবং সহজে এর আকার -আকৃতি চিহ্নিত করা যায়।এইগুলো জন্মপূর্ব বিকাশের বিভিন্ন স্তরের উপর ভিত্তিশীল ও বোধগম্য এবং বাস্তব, বৈজ্ঞানিক ও মার্জিত বর্ণনার অধিকারী।
নীচের উল্লেখিত আয়াতে ও মানুষের ভ্রুণ বিকাশের স্তরগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেনঃ
“সে কি স্থলিত বীর্য ছিল না? অতঃপর সে ছিল রক্তপিণ্ড, অতঃপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যাস্ত করেছেন।অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল নর ও নারী।” – সূরা কিয়ামাহ – ৩৭-৩৯
আল্লাহ আরো বলেনঃ
“যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাবে সুবিন্যাস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন। তিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত আকৃতিতে গঠন করেছেন। -সূরা আল ইনফিতার- ৭-৮

ভ্রূণ আংশিক গঠিত ও আংশিক গঠিত নয়ঃ

আরবী — এর পর্যায়ে ভ্রূণকে ছেদন করলে এবং এর আভ্যন্তরীণ অংশকে কাটলে দেখা যাবে যে, এর অধিকাংশই গঠিত হয়েছে, কিন্তু কিছু অংশ সম্পূর্ণরূপে গঠিত হয়নি।
অধ্যাপক জনসনের মতে, আমরা যদি ভ্রূণকে পূর্ণ সৃষ্টি হিসেবে বর্ণনা করি , তখর আমরা কেবল যে অংশ সৃজিত হয়েছে তারই বর্ণনা করি, তাহলে যে অংশ সৃজিত হয়নি, আমরা কেবল সে অংশেরই বর্ণনা করি। তাহলে প্রশ্ন জাগে যে, ভ্রূণ কি পূর্ণ না অপূর্ণ সৃষ্টি ?কোরআনের বর্ণনা অপেক্ষা ভ্রূণের উৎপত্তির স্তর সম্পর্কে আরো কোন উত্তম বর্ণনা নেই। কোরআনের নিম্নোক্ত আয়তে ‘আংশিক গঠিত হয়েছে’এবং ‘আংশিক গঠিত হয়নি’বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেনঃ
আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, এরপর বীর্য থেকে , এর পর জমাট রক্ত থেকে , এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংস পিণ্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্য ।” -সূরা হজ্জ -৫
আমরা বৈজ্ঞানিক ভাবে জানি যে, বিকাশের প্রাথমিক স্তরে কিছু পার্থক্য মূলক কোষ এবং কিছু অপার্থক্য মূলক কোষ আছে। অর্থাৎ কিছু অঙ্গ তৈরী হয়েছে এবং কিছু অঙ্গ এখনও তৈরী হয়নি।

শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির অনুভূতিঃ

বিকাশমান মানবিক ভ্রূণের মধ্যে প্রথম যে অনুভূতিটি সৃষ্টি হয় সেটি হল শ্রবন শক্তির অনুভূতি । ২৪ সপ্তাহ পর ভ্রূণ, শব্দ শুনতে পায়।তারপর দৃষ্টি শক্তি হয় এবং ২৮ সপ্তাহ পরে রেটিনা বা অক্ষিপট আলোর গতি সংবেদনশীল হয়। আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেনঃ
“এবং তোমাদেরকে দেন কান, চোখ ও অন্তর ।” সূরা সাজদাহ -৯
আল্লাহ আরো বলেনঃ
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে – এভাবে তাকে পরীক্ষা করবো । অতঃপর তাকে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি ।”- সূরা দাহর-২
আল্লাহ আরো বলেনঃ
“তিনি তোমাদের কান, চোখ অন্তঃকরন সৃষ্টি করেছেন, তোমরা খুবই অল্প কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক।” -সূরা আল- মোমেনুন -৭৮
উপরোক্ত আয়াতসমূহের দৃষ্টিশক্তির আগে শ্রবণ শক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বুঝা যায় আধুনিক ভ্রূণ বিজ্ঞানের সাথে কোরআনের বর্ণনায় পরিপূণ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Advertisements
This entry was posted in কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s