জ্যোতির্বিজ্ঞান- জাকির নায়েক


বিশ্বের সৃষ্টি : বিগ ব্যাং

বিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে জ্যোতির্বিদগণ কর্তৃক প্রদত্ত একটি ব্যাখ্যা হল বিগ ব্যাং থিওরি, যা ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন তথ্য ও পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এই তত্ত্ব সমর্থিত হয়েছে। “বিগ ব্যাং” অনুসারে মহাবিশ্ব প্রাথমিক অবস্থায় একটি বিশাল নিহারিকা ছিল। তারপর সেখানে একটি মহা বিস্ফরন ঘটে, ফলে ছায়া পথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে এগুলো তারা, গ্রহ, সূর্য ও চন্দ্র ইত্তাদিতে রুপান্তরিত হয়। বিশ্বের উৎপত্তি ছিল এক অনন্য ঘটনা এবং দৈব ক্রমে এ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা শূন্য পর্যায়ে বা আদৌ সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে-
“কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?”[২১ঃ৩০]
কোরআনের এ আয়াত এবং বিগ ব্যাং তত্তবের মধ্যে বিস্ময়কর সাদৃশ্যতা কিছুতেই উপেক্ষনিয় নয়। ১৪০০ বছর পূর্বে আরবের মরুভূমিতে অবতীর্ণ হওয়া একটি গ্রন্থে এমন গভীর বৈজ্ঞানিক সত্যর উপস্থিতি কেবল আমাদের বিস্মিত করতে পারে!

ছায়াপথ সৃষ্টির পূর্বে প্রাথমিক গ্যাস পিন্ডঃ

বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, মহাবিশ্বে ছায়াপথ গঠিত হবার পূর্বে , সব পদার্থ প্রাথমিক ভাবে গ্যাস অবস্থায় ছিল। সংক্ষেপে বলা যায়, ছায়াপথ তৈরির আগে বিপুল পরিমান পদার্থ গ্যাস বা মেঘ অবস্থায় বিদ্যমান ছিল। আসলে মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থাকে বর্ণনা করতে “ধোয়া” শব্দটি গ্যাসের থেকে আরও বেশি যথার্থ। কোরআনে মহাবিশ্বের এই অবস্থাকে বর্ণনা করা হয়েছে নিচের আয়াতে, যেখানে আল্লাহ্‌ তাআলা “দুখা-ন” শব্দটি ব্যাবহার করেছেন, যা অর্থ “ধোয়া”।
“অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।”[৪১:১১]
তাছাড়া এটা সবার জানা যে, “বিগ ব্যাং” এর স্বাভাবিক ফল হল এ ঘটনা এবং ১৪০০ বছর আগে আরবের কারো কাছে এই তথ্য জানা ছিল না, তাহলে এই জ্ঞানের উৎস কি ছিল?

পৃথিবী গোলাকার:

আদিকালে মানুষ বিশ্বাস করত যে, পৃথিবীর আকার হচ্ছে চ্যাপ্টা বা স্ফীত। শতশত বছর ধরে মানুষ পৃথিবীর কিনারা থেকে ছিটকে পড়ে যাবার ভয়ে বেশি দূর পর্যন্ত ভ্রমন করত না। ১৫৯৭ সালে ফ্রান্সিস ড্রেক প্রথম পৃথিবীর চারপাশে নৌ-ভ্রমন করে প্রমান করেছিলেন যে, পৃথিবী গোলাকার।
দিবারাত্রির বিবর্তন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের নিচের আয়াতটি বিবেচনা করা যাক-
“তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন? ” [৩১:২৯]
এখানে বলা হচ্ছে, রাত ধীরে ধীরে এবং ক্রমশ দিনে রূপান্তরিত হয়, অনুরূপভাবে দিনও ধীরে ধীরে রাতে রূপান্তরিত হয়। এ ঘটনা কেবল পৃথিবী গোলাকার হলেই ঘটতে পারে। পৃথিবী যদি চ্যাপ্টা হত, তাহলে রাত্রি থেকে দিনে এবং দিন থেকে রাত্রিতে একটা আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে যেত।
নিচের আয়াতটিও পৃথিবীর গোল আকৃতির ইঙ্গিত দেয়-
“তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।”[৩৯:৫]
এ আয়াতে ব্যাবহৃত আরবি শব্দটি হচ্ছে “يُكَوِّرُ” যার অর্থ আচ্ছাদিত করা বা কোন জিনিস কে প্যাঁচানো- যেভাবে মাথার চারদিকে পাগড়ি প্যাঁচানো হয়। দিন ও রাতের আচ্ছাদিত করা বা কুন্ডুলী পাকানো বিষয়টি শুধু তখনি সম্ভব যখন পৃথিবী গোলাকার হয়।
পৃথিবী বলের মত পুরপুরি গোলাকার নয় বরং কমলা বা ডিমের মত, নিচের আয়াতে পৃথিবীর আকারের বর্ণনা দেয়া হয়েছে-
“আর আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে উহার পর ডিম্বাকৃতি করে তৈরি করেছেন”[৭৯:৩০]
এখানে ডিমের জন্য ব্যাবহৃত আরবি শব্দ হচ্ছে “دَحَاهَا” , যার অর্থ হচ্ছে উট পাখির ডিম, এবং উট পাখির ডিমের আকৃতি হল পৃথিবীর মত।
এইভাবে কোরআনে ১৪০০ বছর আগে পৃথিবীর আকৃতির বর্ণনা সঠিক দেয়া হয়েছে, যদিও পৃথিবী চ্যাপ্টা হবার ধারনাটাই তখন প্রচলিত ছিল।

চাঁদের নিজের কোন আলো নেই চাঁদের আলো প্রতিফলিত আলো:

প্রাচীন সভ্যতা গুলোতে বিশ্বাস করা হত যে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে, কিন্তু বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান থেকে আমরা জানতে পারি যে চাঁদের নিজস্ব কনো আলো নেই। চাঁদের আলো হচ্ছে প্রতিফলিত আলো। এখন কোরআনে চাঁদ এবং সূর্য সম্পর্কিত কয়েকটি আয়াত লক্ষ্য করি, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন-
“কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র।”[২৫:৬১]
“তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে।”[১০:৫]
“তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে।”[৭১:১৫-১৬]

আরবি ভাষায় সূর্যকে বুঝাতে “শামস” শব্দটি ব্যাবহৃত হয়। আবার “সিরাজ” শব্দটি দিয়েও সূর্যকে বুঝানো হয়ে থাকে, যার অর্থ হলো বাতি বা মশাল। অন্যত্র সূর্যকে “সিরাজ ওয়াহহাজ” দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছে। যার অর্থ হলো প্রজ্জলিত বাতি। আবার অন্য জায়গায় সূর্যকে বুঝানোর জন্য “দিয়া” ব্যাবহার করা হয়েছে। যার অর্থ হলো “উজ্জ্বল জ্যোতি”। তিনটি বর্ণনার সবগুলোই সূর্যের জন্য উপযোগী, কারন সূর্য নিজেই দহন ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচন্ড তাপ উৎপন্ন করে।
এবার চাঁদের কথায় আসা যাক, চাঁদের আরবি প্রতিশব্দ হলো “ক্বামার”, কোরআনে চাঁদকে বুঝাতে “মুনীর” শব্দটিও উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে “স্নিগ্ধ আলোদানকারী”। চাঁদ হচ্ছে একটি নিষ্ক্রিয় উপগ্রহ যার নিজের কোন আলো নেই, চাঁদ সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে মাত্র। চাঁদের প্রকৃতির সাথে কোরআনের বর্ণনা হুবহু মিলে যায়। কোরআনে একবারের জন্য ও চাঁদকে “সিরাজ” “ওয়াহহাজ” বা “দিয়া” বলে উল্লেখ করা হয়নি, আবার চাঁদকেও একবারের জন্য “নূর” বা “মুনীর” হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এর দ্বারা বোঝা যায় যে কোরআনে সূর্যের আলো ও চাঁদের আলোর পার্থক্য করা হয়েছে, যা অত্যন্ত বিস্ময়কর। ১৪০০ বছর আগে এই বৈজ্ঞানিক সত্য কোন মানুষেরই জানা ছিল না।

সূর্য আবর্তিত হয়:

দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করত যে, পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্রে স্থির হয়ে আছে এবং সূর্য সহ অন্য গ্রহ গুলো এর চারিদিকে আবর্তন করছে। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে টলেমির যুগ থেকে এই ধারনা সত্য হিসাবে প্রচলিত ছিল। ১৫১২ সালে নিকলাস কোপারনিকাস তার “সূর্য কেন্দ্রিক গ্রহ সংক্রান্ত গতি তত্ত্ব ” দেন, যাতে বলা হয়, সূর্য তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান গ্রহগুলোর কেন্দ্রে গতিহীন।
১৬০৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী কেপলার “astronomia nova” নামক বইটি প্রকাশ করেন। এতে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে , গ্রহ গুলো কেবল সূর্যের চারিদিকে ডিম্বাকৃতির কক্ষপথেই পরিভ্রমন করে না, বরং এরা নিজ নিজ অক্ষের উপর অসম গতিতে আবর্তিত হয়। এই জ্ঞানের ফলে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের পক্ষে দিন ও রাতের আবরতনসহ সৌর জগতের বহু বিষয় ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হয়েছিল।
এসব আবিষ্কারের পরেও বিশ্বাস করা হতো যে , সূর্য স্থির এবং পৃথিবীর মত স্বীয় অক্ষের উপর আবর্তিত হয় না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন-
“তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।”[২১:৩৩]
উপরে উল্লেখিত আয়াতে ব্যবহৃত আরবি শব্দ “يَسْبَحُون” (ইয়াছবাহুন), যা “সাহাবা” মূল থেকে এসেছে। এই শব্দটি যেকোন প্রবাহমান বস্তু থেকে উদ্ভুত গতিকে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শব্দটিকে যদি মাটির উপরে কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় তাহলে এর অর্থ এটা নয় যে সে গড়াগড়ি দিচ্ছে, বরং এর অর্থ হবে সে হাটছে বা দৌড়াচ্ছে। আবার শব্দটিকে যদি পানিতে অবস্থিত কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় তাহলে এর অর্থ এটা নয় যে সে ভাসছে, বরং এর অর্থ হবে সে সাঁতার কাটছে।
একইভাবে যদি “يَسْبَحُون” (ইয়াছবাহুন) শব্দটি আকাশ সম্পর্কিত কোন জিনিস, যেমন- সূর্য সম্পর্কে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটা কেবল মহাশূন্যের মধ্যদিয়ে উড়াকেই বুঝাবে না, বরং এটি মহাশূন্যে আবর্তিত হয় – এমন অর্থ বুঝাবে।সাম্প্রতিক গবেষনায় দেখা গেছে যে সূর্য তার নিজের অবস্থানে প্রতি ২৫ দিনে একবার আবর্তন করে। এবং সূর্য প্রতি সেকেন্ডে ২৪০ কিলমিটার গতিতে মহাশূন্যে ভ্রমন করে এবং আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রের চতুর্দিকে একটি পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করতে প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছর লাগে।
কোরআনে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন-
“সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।”[৩৬:৪০]
এ আয়াতে আধুনিক জোতিষশাস্ত্র কর্তৃক আবিষ্কৃত কতিপয় বৈজ্ঞানিক সত্যকে উল্লেখ করেছে, যেমন চাঁদ ও সূর্যের স্বতন্ত্র কক্ষপথের অস্তিত্ব এবং এগুলোর নিজস্ব গতিতে মহাশূন্যে ভ্রমন।
পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরতে চাঁদের যতটুকু সময় লাগে ততটুকু সময়ে চাঁদ নিজ কক্ষপথে একবার আবর্তন করে। একবার পরিপূর্ণভাবে ঘুরে আসতে তার ২৯.৫ দিন সময় প্রয়োজন হয়।
কোরআনের আয়াত সমূহের এইসব বৈজ্ঞানিক তথ্যে কেউ আশ্চর্য না হয়ে পারে না। আমাদের কি একটু চিন্তা করা উচিত নয় যে , ১৪০০ বছর আগে এই আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের উৎস কি ছিল?

একটি নির্দিষ্ট সময় পর সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে যাবে:

গত পাঁচ বিলিয়ন বছর ধরে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্য পৃষ্ঠে তাপ উৎপন্ন হচ্ছে।বর্তমানে বিজ্ঞানীরা ধারনা করেন যে, অনাগতকালের কোন এক সময়ে এর সমাপ্তি ঘটবে যখন সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে যাবে। সূর্যের সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে-
“সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ।”[৩৬:৩৮]
অন্য আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন
“তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।”[৩৯:৫]
এখানে ব্যবহৃত আরবি শব্দ “مُسْتَقَرٍّ” (মুসতাকার), যার অর্থ “একটি নির্দিষ্ট স্থান” বা “একটি নির্দিষ্ট সময়”। এভাবে কোরআন বলছে যে, সূর্য একটি নির্ধারিত স্থানের দিকে আবর্তন করছে যা চলতে থাকবে একটি পূর্ব নির্ধারিত সময় পর্যন্ত। এর মর্মার্থ হল, একদিন সূর্যের অবসান ঘটবে। এ বিষয়ে আল্লাহ্‌ তাআলা অন্য একটি আয়াতে আর ষ্পষ্টভাবে বলেছেন-
“যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,”[৮১:১]

সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব:

আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল ১৯২৫ সালে পর্যবেক্ষণমূলক সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়ে উপস্থাপন করেন যে , সকল ছায়াপথ একে অপর থেকে অপসৃত হচ্ছে। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই তথ্যটি বর্তমানে সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য। মহাবিশ্বের প্রকৃতি সম্পর্কে কোরআনে দেখা যায়-
“আমি স্বহস্তে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমিই এর সম্প্রসারণকারী”[৫১৮৭]
আরবি শব্দ “مُوسِعُونَ” (মুছিউন) এর যথার্থ অনুবাদ হল “সম্প্রসারণকারী” এবং এটি মহাবিশ্বের এই সম্প্রসারণশীল ধর্মের প্রতি ইঙ্গিত করে।
স্টিফেন হকিং তার “A Brief History Of Time” নামক গ্রন্থে বলেছেন, মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে – এই আবিষ্কারটি বিংশ শতাব্দীর মহান বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লবের অন্যতম। কিন্তু কোরআন যখন এই মহাবিশ্ব সম্প্রসারন এর কথা বলেছে তখন মানুষ সামান্য টেলিফোন ও আবিষ্কার করতে পারে নি।

Advertisements
This entry was posted in কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান and tagged , , , , , , , , , . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s