দাওয়াহ না ইসলাহ,প্রথমে কোনটির প্রয়োজন?

প্রশ্নঃ আপনি বলেছেন দাওয়াহ আর ইসলাহ একসাথে চালাতে।অনেক খ্রিস্টান বলে- আমরা ইসলামকে ঘৃণা করি না মুসলিমকে ঘৃণা করি। এতে কি প্রমাণিত হয়না যে ইসলাহ আগে প্রয়োজন?

উত্তরঃ

ইসলাহ অবশ্যই প্রয়োজন।আমি সৎ কর্মের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছি না।আমি যা বলছি তা হল ইসলাহের অজুহাতে দাওয়াহ এর কার্যক্রম বন্ধ থাকতে পারে না।আর যারা বলে যে তারা ইসলামকে ঘৃণা করে না মুসলিমকে ঘৃণা করে তাদের বলুন যে আমরা তাদেরকে ইসলামের পথে ডাকছি মুসলিমের পথে নয়,আমরা বলেছি ইসলাম গ্রহণ করুন ও ইসলামের বিধান অনুসরণ করুন।

আমরা কি বলছি মুসলমানকে অনুসরণ করুন?

আপনি যখন তুলনা করবেন তখন ইসলামের সাথে খ্রিস্টান ধর্মের,ইসলামের সাথে হিন্দু ধর্মের।মুসলিমের সাথে খ্রিস্টানের নয় বা মুসলিমের সাথে হিন্দুর নয়।মনে করা যাক,আপনি একটি নতুন মার্সিডিজ গাড়ী কিনলেন ও ড্রাইভার নিয়োগ দিলেন।এখন ড্রাইভারের অজ্ঞতায় অপরিপক্কতায় গাড়িটি দূর্ঘটনার শিকার হল।

এখন কি আপনি মার্সিডিজ কোম্পানির দোষ খুঁজবেন নাকি ড্রাইভার বদল করবেন? অবশ্যই চালক বদল করবেন।অতএব,কোন মুসলিমের অবস্থা দেখে আপনি ইসলামকে দোষারোপ করতে পারেননা।

 

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ধর্ষনের ঘটনা ঘটে কোথায়? পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অর্থাৎ, খ্রিস্টান প্রধান দেশগুলোতে।তাই বলে কি আপনি বলবেন, খ্রিস্ট ধর্ম ধর্ষনের জন্য দায়ী? খ্রিস্ট ধর্ম তো ধর্ষনকে নিষিদ্ধ করেছে। এ কারনে কোন ধর্মের মানুষ দেখে ঐ ধর্মকে জানা বা বোঝা যায় না।আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করার মত, তারা যখন মুসলমানদের দোষ ধরে ইসলামকে দোষারোপ করে তখন সবচেয়ে দূর্বল মুসলিমদের উদাহরণ দেয়।কিন্তু নিয়ম তো এটা নয়।আপনি উৎকৃষ্ট হিন্দুর সাথে উৎকৃষ্ট মুসলমানের তুলনা করে দেখুন কারা উত্তম।খ্রিস্টানদের উৎকৃষ্ট অংশের সাথে মুসলমানদের উৎকৃষ্ট অংশের তুলনা করে দেখুন কারা শ্রেষ্ঠ। এটি না করে মুসলিমগণের নিকৃষ্ট অংশকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইসলামের বিরুদ্ধচারণের বিষয়টি কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?

যদি নৈতিকতার বিচারে সামগ্রিকভাবে দেখেন তবে দেখবেন সমষ্টিগতভাবেও মুসলিমগণ এগিয়ে,মদ,ধর্ষণ,জুয়া,বেহায়াপানা ইত্যাদিতে সামগ্রিকভাবে মুসলিমগণ অন্যান্ন ধর্মাবলম্বী থেকে অনেক ভাল অবস্থানে আছে।

তাই অমুসলিমরা ইসলাম নিয়ে যেসব অভিযোগ করে থাকে যেমন বহু বিবাহ, নারী অধিকার ইত্যাদি নিয়ে যদি আমরা যৌক্তিকভাবে ইসলামের অবস্থান তুলে ধরতে পারি তবে অবশ্যই তারা নিশ্চুপ থাকবে অথবা ইসলাম গ্রহণ করবে।

 

___________________________ডাঃ যাকির নাইক।

 

Advertisements
This entry was posted in প্রশ্ন উত্তর and tagged , . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s