ইসলাম ও মুসলিম পর্ব ২

ইসলাম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র দ্বীন

ইসলাম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র দ্বীন। ইসলাম ছাড়া আর কোন দ্বীন আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এর প্রমাণ হলো আল্লাহ পাক তাঁর কিতাব কুরআন মজীদে এরশাদ করেছেনঃ

إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلامُ

‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীম দ্বীন হলো ইসলাম।’ (আল ইমরান, ৩ : ১৯)

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ

‘কেউ যদি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন চায় তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।’ (আল ইমরান, ৩ : ৮৫)

ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা

ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা। আল্লাহ পাক কুরআন মাজীদে এরশাদ করেন :

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلامَ دِينًا

‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম। আমার নেয়ামতকে তোমাদের উপর পূর্ণতা দিলাম আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (মায়েদা, ৫ : ৩)

সুতরাং যে দ্বীনকে আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় রাসূলের মাধ্যমে যে দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন তার ভিতরে নতুন কিছু সংযোজন করার অধিকার কারও নেই। যদি করা হয় তা হবে বিদআ’ত। আর বিদআ’তের ব্যাপারে রাসূল সালøালøাহু আলাইহি ওয়া সালøাম বলেছেন, كل بدعة ضلالة বিদআ’ত সবই গোমরাহী। এ কারণেই হযরত ইমাম মালেক (রহঃ) বলেছেনঃ

من ابتدع بدعة فيراها حسنة فقد زعم ان محمدا صلى الله عليه وسلم خان فى الرسالة لان الله تعالى يقول اليوم اكملت لكم دينكم فما لم يكن يومئذ دينا فليس اليوم دينا (الاعتصام )

“যে ব্যক্তি কোন বিদআ’ত আবিস্কার করে আবার সেটাকে বিদআ’তে হাসানাহ বা ভালো বিদআ’ত মনে করে সে যেনো দাবী করলো যে, হযরত মুহাম্মদ সালøালøাহু আলাইহি ওয়া সালøাম রিসালাতের ভিতরে খিয়ানত করেছেন, কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ اليوم اكملت لكم دينكم “আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। সুতরাং যে সব কাজ তখন দ্বীনের অন্তর্ভূক্ত ছিল না তা বর্তমানেও দ্বীন নয়।

পূর্ণাঙ্গ দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গরূপেই গ্রহণ করতে হবে

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ

“হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (সুরা বাকারা, ২ : ২০৮)

পূর্ণাঙ্গ দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গরূপেই গ্রহণ করতে হবে। সুতরাং কিছু মানবো কিছু মানবো না, এমন ব্যক্তি মুসলিম হতে পারে না।

وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (132)

“এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আলøাহ্ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না। (বাকারা, ২ : ১৩২)

أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

“তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দাংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দাংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শা¯িÍর দিকে পৌঁÍছে দেয়া হবে। আলøাহ্ তোমাদের কাজ-কর্ম স¤পর্কে বে-খবর নন। (বাকারা, ২ : ৮৫)

إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيُرِيدُونَ أَنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَنْ يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا (150) أُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ حَقًّا وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُهِينًا (151

“যারা আলøাহ্ ও তার রসূলের প্রতি অ¯¦ীকৃতি জ্ঞাপনকারী তদুপরি আলøাহ্ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাসে তারতম্য করতে চায় আর বলে যে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি কিন্তূ কতককে প্রত্যাখ্যান করি এবং এরই মধ্যবর্তী কোন পথ অবল¤¦ন করতে চায়। প্রকৃতপক্ষে এরাই সত্য প্রত্যাখ্যাকারী। আর যারা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছি অপমানজনক আযাব। (নিসা, ৪ : ১৫০-১৫১)

ইসলাম ছাড়া অন্য সকল ধর্ম বা মতবাদ বাতিল

বর্তমানে কিছু আধুনিক শিÿিত এবং তথাকথিত পীরদেরকে বলতে শুনা যায় যে, “পরকালে মুক্তির জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা জরুরী নয়” যেমন ‘আল্লাহ কোন পথে?’ নামক বইয়ের ৩য় সংস্করণ, ডিসেম্বর, ১৯৯৭ খ্রীষ্টাব্দে, পৃঃ ১১৩-১১৪ ও ১২৫-১২৬ এবং ‘মাইজভাণ্ডারীর জীবনী ও কেরামত’ নামক বইয়ের পঞ্চদশ প্রকাশ : জুলাই -২০০২, পৃষ্ঠা : ১৫১-১৫২ তে বলা হয়েছে পরকালে মুক্তির জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আবশ্যকতা আছে বলে মনে করি না। বরং হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান যে কোন ধর্মের লোক নিজ নিজ ধর্মে থেকে সাধনা করে মুক্তি পেতে পারে। তাদের এই কথিত ‘তাওহীদে আদইয়ান বা সকল ধর্মের ঐক্য’ এর স্বপÿে কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত পেশ করে থাকে :

إِنَّ الَّذِينَ آَمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْ آَمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ

অর্থাৎ যারা মু’মিন, যারা ইয়াহুদী, এবং খৃষ্টান ও সাবিঈন- (এদের মধ্যে) যারাই আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে ও সৎকাজ করে তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। (সূরা বাকারা, ২ : ৬২)

অথচ এ আয়াতে যে কোন ধর্মের লোকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা ঈমান আনলে এবং নেক কাজ করলে তারা পরকালে মুক্তি পাবে। আর একথা স্পষ্ট যে, ইসলাম ধর্ম আগমনের পর রাসূল সালøালøাহু আলাইহি ওয়া সালøাম কে আখেরী নবী না মানলে তার ঈমান পূর্ণ হবে না। আর রাসূল সালøালøাহু আলাইহি ওয়া সালøাম কে আখেরী নবী মানলে অন্যান্য সব ধর্মের বিধানকে রহিত মানতে হয়। তাহলে অন্য কোন ধর্মে থেকে মুক্তির অবকাশ রইল কোথায়?

কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন :

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِين

“যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কসি¥ণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্র¯Í। (আল ইমরান, ৩ : ৮৫)

أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ

“তারা কি আল্লাহদ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে ¯ে¦চছায় হোক বা অনিচছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। (আল ইমরান, ৩ : ৮৩)

অমুসলিমরা ইসলাম না গ্রহণ করে যত ভাল কাজই করুক না কেন, পরকালে তারা মুক্তি পাবে না। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে :

وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ يَحْسَبُهُ الظَّمْآَنُ مَاءً حَتَّى إِذَا جَاءَهُ لَمْ يَجِدْهُ شَيْئًا وَوَجَدَ اللَّهَ عِنْدَهُ فَوَفَّاهُ حِسَابَهُ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ (39) أَوْ كَظُلُمَاتٍ فِي بَحْرٍ لُجِّيٍّ يَغْشَاهُ مَوْجٌ مِنْ فَوْقِهِ مَوْجٌ مِنْ فَوْقِهِ سَحَابٌ ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَا أَخْرَجَ يَدَهُ لَمْ يَكَدْ يَرَاهَا وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ

অর্থাৎ যারা কাফের, তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকা সমতুল্য, যাকে পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে। কিন্তু সে যখন তার কাছে যায়, তখন কিছুই পায় না এবং পায় সেখানে আল্লাহকে, অত:পর আল্লাহ তার হিসাব চুকিয়ে দেন। আল্লাহ দ্রæত হিসাব গ্রহণকারী। অথবা (তাদের আমলসমূহ) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে। একের উপর এক অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন তাকে একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতি নেই। (সূরা আন-নূর, ২৪ : ৩৯-৪০)

এর জ্বলন্ত প্রমাণ আবু তালেব। আল্লাহর রাসূল (সাঃ)- এর আপন চাচা। হযরত আলী (রাঃ) এর আব্বাজান। যিনি সারা জীবন রাসূল (সাঃ) কে ভাতিজা হিসাবে দেখা-শুনা করেছেন, সাহায্য-সহযোগীতা করেছেন। এমনকি তিন বৎসর পর্যন্ত অবরুদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহণ না করে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) মৃত্যুর পরেও তার জন্য দোয়া করতে থাকলেন, ফলে আল্লাহ তা‘আলা আয়াত নাযিল করে দিলেন :

مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آَمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ

“নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আতœীয় হোক একথা সু¯পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী। (তাওবা, ৯ : ১১৩)

আরো বলা হলো :

إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ

“আপনি যাকে পছন্তদ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আলøাহ্ তা’আলাই যাকে ইচছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে স¤পর্কে তিনিই ভাল জানেন। (কাসাস, ২৮ : ৫৬)

এ বিষয়টি হাদীস শরীফে আরো স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে :

عن جابر رضى الله عنه، عن النبى صلى الله عليه وسلم حين اناه عمر فقال : انا نسمع احاديث من يهود تعجبنا، أفترى أن نكتب بعضها؟ فقال : (( أمتهوكون أنتم كما تهوّكت اليهود والنصارى؟! لقد جئتكم بها بيضاء نقيّة، لو كان موسى حيا ما وسعه إلا اتباعى )) رواه أحمد، والبيهقى فى كتاب ((شعب الإيمان))

হযরত জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত উমার (রাঃ) একবার আল্লাহর রাসূলের কাছে এসে বললেনঃ (ইয়া রাসূলালøাহ) আমরা ইহুদীদের কাছে এমন কিছু কথা-বার্তা শুনতে পায়, যা আমাদের নিকট ভাল লাগে, আমরা তাদের (তাওরাতের) কিছু কথা লিখে রাখবো? আল্লাহর (সাঃ) বললেনঃ তোমরা কি বিভ্রান্তির মধ্যে আছো?! যেমনিভাবে বিভ্রান্তিতে আছে ইয়াহুদী এবং খৃষ্টানরা। নিশ্চয় আমি তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছি স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার (একটি দ্বীন), যদি হযরত মুসা (আঃ) (তাওরাত যার উপর নাজিল হয়েছে) তিনি জীবিত থাকতেন তাহলে আমার অনুসরণ করা ছাড়া তার কোন উপায় ছিল না।

عن جابر، ان عمر بن الخطاب رضى الله عنهما، أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم بنسخة من التوراة، فقال : يا رسول الله! هذه نسخة من التوراة، فسكت فجعل يقرأ و وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم يتغير . فقال أبو بكر : ثكلتك الثواكل! ما ترى ما بوجه رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! فنظر عمر إلى وجه رسول صلى الله عليه وسلم فقال : أعوذ بالله من غضب الله وغضب رسوله، رضينا بالله ربّا، وبالاسلام دينا، وبمحمد نبيا . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ((والذى نفسى محمد بيده، لو بدا لكم موسى فاتبعتموه وتركتمونى لضللتم عن سواء السبيل، ولو كان حيّا وأدرك نبوتى لاتبعنى )). رواه الدارمى

হযরত জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : “উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুলøাহ সালøঅলøাহু আলাইহি ওয়া সালøাম এর নিকট তাওরাত লিখিত একখন্ড কাগজ নিয়ে আসলেন। অতঃপর বললেনঃ ইয়া রাসূলুলøাহ! এটা তাওরাতের থেকে লিখিত একখন্ড বাণী। অতপরঃ রাসূলুলøাহ সালøালøাহু আলাইহি ওয়া সালøাম চুপ থাকলেন এবং উমার (রাঃ) তা পড়তে আরম্ভ করলেন, তার পড়া শুনে রাসূলূলøাহ এর চেহারা পরিবর্তন হতে লাগল। অতপরঃ আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ হে ওমর! তুমি সড়ে যাও (চুপ হয়ে যাও), তুমি কি রাসুলুলøাহ সালøালøাম এর চেহারার অবস্থা দেখতে পাচ্ছনা? অতপরঃ উমার (রাঃ) রাসূলুলøাহ সালøালøাহু আলাইহি ওয়া সালøাম এর চেহারার দিকে তাকালেন এবং বললেনঃ আমি আল্লাহর কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অসন্তুষ্টি থেকে পানাহ চাচ্ছি। তিনি আরো বললেনঃ আমরা আল্লাহকে রাব্ব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে ও মুহাম্মাদ সালøালøাহু আলাইহি ওয়া সালøাম কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। অতপরঃ রাসূল সালøালøাহু বললেনঃ সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! যদি তোমরা মুসা (আঃ) কে পেতে অতপরঃ তার অনুসরণ করতে ও আমাকে পরিত্যাগ করতে, তাহলে সঠিক পথ বা দ্বীন থেকে দুরে চলে যেতে (পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে)। যেনে রাখ! যদি মুসা (আঃ) ও জীবিত থাকত এবং আমাকে পেত; তবে আমার অনুসরণ করতো। (দারেমী, মেশকাত বা: এ’তেছাম)

মেশকাত শরীফের আরো একটি হাদীসে আছে, রাসূলুলøাহ সালøালøাহু আলাইহি ওয়া সালøাম বলেনঃ “সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এই উম্মাতে ইয়াহুদী ও নাসারাদের মধ্য হতে কেউ যদি আমার কথা জানে-শুনে এবং আমি যা কিছু সহ প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি ঈমান না আনে, তাহলে সে জাহান্নামের অধিবাসী হবে।” (মেশকাত-মুসলিম)

Advertisements
This entry was posted in ইসলাম এবং প্রচলিত প্রথা, ইসলাম ও মুসলিম. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s