Feeds:
পোস্ট
মন্তব্য

Scan

►►►মসজিদ থেকে বের হলেন, দেখলেন একজন আপনাকে গছিয়ে দিল একটি লিফলেট, যাতে লেখা…”যে এই অসিয়তনামা ছাপাবে…তার এই হবে আর যদি কেউ না ছাপায় তাহলে তার…এই এই হবে” কি করবেন ?? এগুলো কতটুকু সত্য? আসুন পড়ে দেখি ও নিজেদের দীনকে মূর্খতা ও তামাশার হাত থেকে রক্ষা করি

মসজিদে নববীর কথিত খাদেম শায়খ আহমাদের কাল্পনিক স্বপ্নের অপনোদন

আলোচ্য রিসালাটি আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজের পক্ষ থেকে যারা এ বিষয়ে অবগত হয়েছেন তাদের নিকট আল্লাহ তাদের দীনকে হেফাজত করুন এবং তিনি আমাদের ও তাদেরকে অজ্ঞতা ও হীন মানসিকতার অকল্যাণ থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

আমি মসজিদে নববী শরিফের কথিত খাদেম শায়খ আহমদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি লিফলেট সম্পর্কে অবহিত হই।

►যার শিরোনাম: এটা মদীনা মোনাওয়ারা থেকে মসজিদে নববী শরিফের খাদেম শায়খ আহমদের পক্ষ থেকে একটি অসিয়ত নামা

►-অসিয়ত নামার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

“আমি জুময়ার রাতে জাগ্রত অবস্থায় কুরআনে কারীম তেলাওয়াত করছিলাম এবং আল্লাহর আসমায়ে হুসনা বা সুন্দর নামসমূহ তেলাওয়াত শেষ করে যখন ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এমতাবস্থায় নয়ন জুড়ানো সুদর্শনের মূর্ত প্রতীক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম। যিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নেতা, কুরআনের আয়াত ও শরিয়তের বিধি-বিধানসহ সমস্ত জগতের প্রতি রহমত স্বরূপ এসেছিলেন।

তারপর তিনি বলেন: ওহে শায়খ আহমাদ! আমি বললাম: লাব্বাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ, হে আল্লাহর সৃষ্টির সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: আমি মানুষের অপকর্মে দারুণ লজ্জিত, আমি আমার প্রতিপালক ও ফিরেশতাদের সাথে এ অবস্থায় সাক্ষাত করতে পারব না। কারণ, এক জুময়া থেকে দ্বিতীয় জুময়া পর্যন্ত এক লক্ষ ষাট হাজার লোক বেদীন হয়ে মারা গেছে। অতঃপর মানুষ যে সমস্ত পাপে নিপতিত তার কতিপয় তিনি বর্ণনা করেন, তার পর বলেন: তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ এটা একটি অসিয়তনামা। অতঃপর তিনি কিয়ামতের কতিপয় আলামত বর্ণনা করেন… এভাবে আরো কিছু বর্ণনার পর বলেন: হে শায়খ আহমাদ! তাদেরকে এই অসিয়ত সম্পর্কে জানিয়ে দাও, কারণ, এটা লাওহে মাহফূজ থেকে ভাগ্যলিপি স্বরূপ বর্ণিত। আর যে ব্যক্তি এ অসিয়ত নামা ছাপাবে এবং তা এক দেশ থেকে অন্য দেশ ও একস্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠাবে তার জন্য জান্নাতে একটি বালাখানা তৈরী করা হবে। আর যে তা ছাপিয়ে প্রচার করবে না তার জন্য কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত হারাম। যে ব্যক্তি তা ছাপাবে, যদি সে ফকীর হয় আল্লাহ তাকে ধনী করবেন অথবা যদি ঋণগ্রস্থ হয় আল্লাহ তার ঋণ পরিশোধ করে দিবেন অথবা যদি তার গুনাহ থাকে তবে আল্লাহ এ অসিয়তের বরকতে তাকে ও তার পিতামাতাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর আল্লাহর যে বান্দা তা ছাপাবে না দুনিয়া ও আখেরাতে তার চেহারা কাল হয়ে যাবে। Continue Reading »

Capture

শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ রমজানের কাজা রোজা ও শাওয়ালের ছয় রোজা একসাথে এক নিয়তে আদায় করা বিষয়ক একটি প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রশ্নটি হল : শাওয়ালের ছয় রোজা ও মাসিকের কারণে কাজা হয়ে-যাওয়া রমজানের রোজা কী এক নিয়তে এক সাথে আদায় করা বৈধ হবে?


উত্তর : আলহামদুলিল্লাহ ,এরূপ করা শুদ্ধ নয়। কেননা শাওয়ালে ছয় রোজার পর্ব রমজানের রোজা পূর্ণ করার পরই আসে।

শায়খ ইবনে উসাইমিন রোজার ফতোয়ায় (৪৩৮) বলেন:”যে ব্যক্তি আরাফা দিবসে রোজা রাখল অথবা আশুরা দিবসে রোজা রাখল, এমতাবস্থায় যে তার উপর রমজানের কাজা রোজা রয়েছে, তাহলে তার রমজানের কাজা আদায় হয়ে যাবে এবং একই সাথে আরাফা দিবস বা আশুরা দিবসে রোজা রাখার ছাওয়াবও পেয়ে যাবে। এটা হল কেবল সাধারণ নফল রোজার ক্ষেত্রে যার সাথে রমজানের কোনো যুগসূত্র নেই। অবশ্য শাওয়ালের ছয় রোজার বিষয়টি ভিন্ন। শাওয়ালের ছয় রোজা রমজানের সাথে যোগসূত্রে বাঁধা। এ কারণে রমজানের কাজা রোজা থাকলে তা আদায় করার পরই শাওয়ালের ছয় রোজা আদায় করা যাবে। এর প্রমাণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস: ( যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের রোজা রাখল সে যেন পুরা বছরই রোজা রাখল।) আর এটা আমরা জানি যে, যে ব্যক্তির উপর রমজানের কাজা রোজা রয়েছে তাকে রমজানের রোজা আদায়কারী বলা হবে না যতক্ষণ না তার দায়িত্বে থাকা কাজা রোজা সে পূর্ণ করে নেবে।


নক্ষত্রসমূহের প্রকৃতি


আর আমি (আল্লাহ) নিকটবর্তী আসমানকে সুসজ্জিত করেছি
‘মাসাবিহ’ (প্রদীপমালা) দিয়ে। (ফুসসিলাত, ৪১ : ১২, মূলক,
৬৭ : ০৫)

কুরআন মাজিদ মানুষকে আল্লাহ তাআলার নিদর্শনসমূহে চিন্তা-ভাবনা
করার দাওয়াত দেয়। উল্লিখিত আয়াতসমূহ নক্ষত্ররাজিকে একটি বিশেষ
পারিভাষিক শব্দ ‘মাসাবিহ’-এর মাধ্যমে নির্দেশ করছে। যার অর্থ
‘প্রদীপসমূহ’। এ ক্ষেত্রে চিন্তা করে দেখা উচিত, এটা কি নক্ষত্ররাজির
কেবল এক বাহ্যিক বর্ণনা নাকি কুরআন মাজিদ আমাদেরকে নক্ষত্রসমূহের
আনবিক ও রাসায়নিক প্রকৃতির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে? মহাকাশ বিজ্ঞানের
সাম্প্রতিক উনড়বয়ন, বিশেষত বিগত দুই দশকের অগ্রগতি দেখিয়েছে যে,
নক্ষত্রগুলিতে এক ধরনের জ্বালানি জ্বলে আলো ও তাপ বিকিরণ করে,
যেমনটি হয়ে থাকে একটি প্রদীপে।

এটা এখন জ্ঞাত বিষয় যে, নক্ষত্রগুলো অসংখ্য অণুর সমন্বয়ে গঠিত। এই
অণুর নিউক্লিয়াসের চারপাশে ইলেক্ট্রনগুলো আবর্তিত হয়। ফলে নক্ষত্রগুলির
রয়েছে একটি নির্দিষ্ট Volume। আরও আছে বিচ্ছুরিত আলো ও শক্তি।
একটি নক্ষত্রের মৃত্যু মানে তার সেই আলোর শক্তি নিঃশেষিত হওয়া, যা
তার Volume নিয়ন্ত্রণ করে। মহাকাশে দুই ধরনের মহাকাশীয় অবস্থান
রয়েছে। যাদের নাম ‘শুভ্র গহ্বর’ বা কাউসার এবং কৃষ্ণ গহ্বর। প্রথমটি
অভাবনীয় পরিমাণ শক্তির উৎস। পরবর্তী অবস্থানটি হল সেই শূন্যস্থান যা
নক্ষত্রের মৃত্যুর ফলে সৃষ্টি হয়। যখন কোনো নক্ষত্রের মৃত্যু হয় তখন তা
তার মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। মৃত নক্ষত্রটি আয়তনে
যত বড় হয়, তার মধ্যাকর্ষীয় সংকোচন ততই নিবিড় হয়, এমনকী তা তার
নিউক্লিয় স্তরে গিয়েই ক্ষান্ত হয় না; বরং আরো সংকুচিত হয়ে এমন এক
অবস্থায় উপনীত হয়, যাকে বলা হয় Singularity. এটি একটি কৃষ্ণ
গহ্বর তৈরি করে যা কোনোভাবেই দেখা যায় না। নক্ষত্রের আলো বিচ্ছুরণ
এবং পতনের সমগ্র প্রক্রিয়া নির্ভর করে তার শক্তির মাত্রা বা
Energy Level-এর ওপর। এটিকে সেই কারণ বলে ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে,
যার ফলে কুরআন মাজিদ এগুলিকে ‘প্রদীপসমূহ’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

বিপরীত বস্তুর উপস্থিতি


পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সবকিছু জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন,
পৃথিবী যা উৎপন্ন করে তা থেকে, তাদের (মানুষের) নিজেদের
মধ্য থেকে এবং সেসব কিছু থেকেও যা তারা জানে না। (ইয়াসিন,
৩৬ : ৩৬)

বাকিটুকু পড়ুন


সপ্তস্তর বিশিষ্ট আসমান


তিনিই সে সত্তা (আল্লাহ) যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্যে যা
কিছু রয়েছে জমিনে, অতঃপর তিনি মনসংযোগ করেছেন আকাশের
প্রতি। বস্তুত তিনি তৈরি করেছেন সাত আসমান। আর তিনি
সর্ববিষয়ে অবহিত। (বাকারা, ০২ : ২৯)


আর আমি তোমাদের ওপর সৃষ্টি করেছি সপ্তপথ। (মুমিনূন, ২৩ :
১৭)


আর আমি নির্মাণ করেছি তোমাদের ওপর মজবুত সপ্ত আকাশ।
(নাবা, ৭৮ : ১২)

এই আয়াতগুলি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রহস্য হয়েই থেকে গেছে।
এমনকি এই বিজ্ঞানের যুগের মানুষদের কাছেও। সাম্প্রতিক সময়ে একজন
তুর্কি মহাকাশ বিজ্ঞানী ডক্টর হালুক নূর বাকি মহাকাশ বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক
গবেষণার ভিত্তিতে এই আয়াতগুলির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন,
যে মহাশূন্য আমাদের পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তা নিমড়বলিখিত সাতটি
সমকেন্দ্রিক চৌম্বক স্তরে গঠিত।

১. মহাশূন্যের যে ক্ষেত্র সৌরজগত দ্বারা গঠিত তা প্রথম আসমানের
প্রতিনিধিত্ব করে।
২. সম্প্রতি ‘মিল্কিওয়ে’ বা আকাশগঙ্গার চারপাশে একটি চৌম্বক
ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। আমাদের ছায়াপথের এই বিস্তৃত ক্ষেত্রটি
দ্বিতীয় আসমানের প্রতিনিধিত্ব করে।
৩. ছায়াপথসমূহের ‘Local Cluster’ মহাকাশীয় ক্ষেত্র তৃতীয়
আসমানের প্রতিনিধিত্ব করে। বাকিটুকু পড়ুন


তুমি কি মনে করেছ যে, গুহা ও রকিমের অধিবাসীরা ছিল আমার আয়াতসমূহের এক বিস্ময়? যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিল, অতঃপর বলল, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড সঠিক করে দিন।’ ফলে আমি গুহায় তাদের কান বন্ধ করে দিলাম অনেক বছরের জন্য।বিতর্ককারীরা বলবে, ‘তারা ছিল তিনজন, চতুর্থ হল তাদের কুকুর।’ আর কতক বলবে, ‘তারা ছিল পাঁচজন, ষষ্ঠ হল তাদের কুকুর।’ এসবই অজানা বিষয়ে অনুমান করে। আর কেউ কেউ বলবে, ‘তারা ছিল সাতজন; অষ্টম হল তাদের কুকুর। (কাহফ, ১৮ : ০৯,১২,২২)

কুরআন মাজিদের টিকাকারদের মতে, এই আয়াতে একদল যুবকের কথা উল্লিখিত হয়েছে, যারা এক রোমান রাজার উৎপীড়ন থেকে নিজেদের ঈমান ও জীবন রক্ষার জন্য পাহাড়ের একটি গর্তে আশ্রয় নিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে গুহার ভেতর প্রায় তিনশ বছর ঘুমিয়ে রেখেছিলেন। যখন তারা ঘুম থেকে জাগ্রত হল, তাদের একজন সাথীকে একটি মুদ্রা দিয়ে খাবার কিনে আনার জন্য পাঠাল। যখন সে শহরে প্রবেশ করল, দেখতে পেল পুরো শহর সম্পূর্ণরূপে বদলে গেছে। দোকানী এত প্রাচীন মুদ্রা দেখে হতবিহ্বল হয়ে গেল। সে মনে করল, এই যুবক কোনো ধরনের
ধনভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছে এবং সে এই মুদ্রার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইল। যুবকটি এমন বিপত্তির মুখে পড়ে আরও অধিক বিস্মিত হল।বিষয়টি শেষ পর্যন্ত রাজ দরবার পর্যন্ত গড়াল। রাজা যুবকটির কাহিনী শুনে বিস্মিত হলেন। অতঃপর তার সভাসদদের সঙ্গে নিয়ে সেই গুহার কাছে গেলেন এবং যুবকদেরকে তাদের জন্য দুআ করতে বললেন। পরবর্তীতে তারা সেই একই গুহার মধ্যেই বসবাস করতে লাগল এবং মৃত্যু বরণকরল। ‘গিবন’ তার ‘রোমান সম্রাজ্যের উত্থান-পতন’ (অধ্যায় ৩৩) নামক গ্রন্থে এই ঘটনার আরও কিছু বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তার মতে, এই ঘটনাটি সংঘটিত হয় রোম সম্রাট ‘ডিসাস’ এর রাজত্বকালে ২৪৯-২৫১ খৃস্টাব্দে। যুবকরা অতঃপর জাগ্রত হয়েছিল রোমান সম্রাট থিউডুসাস এর রাজত্বকালে। যার শাসনকাল ছিল ৪০৭ থেকে ৪৫০ খৃস্টাব্দ।

কিছুদিন পূর্বে আমি জর্ডানে এক স্থান ভ্রমণ করি, যাকে অধিকাংশ লোক আসহাবে কাহফের গুহা বলে ধারণা করে থাকে। এটি রাজধানী শহর আম্মানের বহিরপার্শ্বে অবস্থিত। পুরো এলাকাটি খুব এবড়ো-থেবড়ো, পিঙ্গলবর্ণ পাহাড়ময়। একটি পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে আছে একটি সুপ্ত গুহা, যার রয়েছে একটি বড় কক্ষ। আমি কক্ষটিতে প্রবেশ করলাম। পাথরে খোদিত সাতটি গর্ত দেখতে পেলাম। প্রতিটি গর্তের ভেতর একটি করে প্রকোষ্ঠ, যাতে একেকটি মানব কঙ্কাল। সেখানে অন্য একটি গর্ত আছে,যাতে আছে কুকুরের কঙ্কাল। স্মর্তব্য, এসব লোকের ব্যাপারে ন্যূনতম জ্ঞান অর্জন কিংবা জানার জন্য মুহাম্মদ সা.-এর কাছে কোনো মাধ্যম কিংবা উৎস ছিল না এবং বাস্তবতা হল, তা এখনো মাটির নিচে একটি গুহায় চাপা পড়ে আছে। এটি কুরআনের মুজিজা যে, তা ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বা নৃবিজ্ঞানীদেরআবিষ্কারের শত শত বছর পূর্বের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। বাকিটুকু পড়ুন

আদ সম্প্রদায়ের অধিবাসী


আর স্মরণ কর আদ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের (হুদের) কথা, যখন সে
আহকাফের স্বীয় সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল। আর এমন
সতর্ককারী তার পূর্বে এবং পরেও গত হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহ
ছাড়া আর কারও ইবাদত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর
এক ভয়াবহ দিনের আজাবের আশংকা করছি।’ তারা বলল, ‘তুমি
কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের থেকে নিবৃত করতে
আমাদের নিকট এসেছ? তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও
তাহলে আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো।’
অতঃপর যখন তারা তাদের উপত্যকার দিকে মেঘমালা দেখল
তখন তারা বলল, ‘এ মেঘমালা আমাদেরকে বৃষ্টি দিবে।’ (হুদ
আ. বলল,) বরং এটি তা-ই যা তোমরা ত্বরান্বিত করতে
চেয়েছিলে। এ এক ঝড়, যাতে যন্ত্রণাদায়ক আজাব রয়েছে। ফলে
তারা এমন (ধ্বংস) হয়ে গেল যে, তাদের আবাসস্থল ছাড়া আর
কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এভাবেই আমি অপরাধী কওমকে
প্রতিফল দিয়ে থাকি। (আহকাফ, ৪৬ : ২১-২২, ২৪-২৫)

কুরআন মাজিদের ভাষ্যকাররা বলেন, ‘আদ সম্প্রদায়ের একটি অংশ প্রথম
আজাব ও ধ্বংস থেকে বেঁচে গিয়েছিল এবং অন্যান্য শহরে বসতি স্থাপন
করেছিল। তাদেরকে ‘আদে উখরা’ বা পরবর্তী আদ হিসেবে আখ্যা দেয়া
হয়। তারাও তাদের নবীদের বিরুদ্ধাচারণ করেছিল এবং পূর্ববর্তী আদ
জাতির ন্যায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।

একটি আমেরিকান মুসলিম সাময়িকী ‘ The Message’ এর ১৯৯২
সালের মার্চ সংখ্যায় রিপোর্ট করা হয়, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার
ভূতত্ত্ববিশারদদের একটি টিম সম্প্রতি আদ সম্প্রদায়ের শহরের
ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছে। যারা ছিল ছামুদ সম্প্রদায়ের সমসাময়িক।
কুরআন মাজিদ চব্বিশটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এই সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ
করেছে। বিশ্বের সকল ধর্মগ্রন্থের মধ্যে কেবল কুরআন মাজিদই এই শহর
ও তার অধিবাসী সম্পর্কে কথা বলেছে। বাইবেলের পুরাতন ও নতুন
সমাচার (Old and New Testaments) এদের সম্পর্কে নিরব। না
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর না যারা তার চারপাশে
বসবাস করত তাদের কেউ কখনো মরুভূমির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সেই
দূরবর্তী এলাকা সফর করেছিল। এমনকি যদি কেউ এই অঞ্চলটি সফর
করেও থাকে, তবু সে এই শহর সম্পর্কে জানতে পারত না। কেননা, তা
গভীর বালির নিচে চাপা পড়ে ছিল।

ইহুদি, খৃস্টান ও নাস্তিকরা বলে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ই
কুরআন মাজিদের রচয়িতা। যাহোক, কেউ এ কথার ব্যাখ্যা দিতে পারে না
যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই অভাবিত জ্ঞান কিভাবে
লাভ করেছিলেন? বাস্তব কথা হল, আল্লাহ তাআলাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এই জ্ঞান নাজিল করেছিলেন, তাঁর শাশ্বত
আসমানি বার্তার উজ্জ্বল প্রমাণ স্বরূপ।

মূলঃ আল-কুরানের ১৬০ মুজিজা ও রহস্য

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 174 other followers

%d bloggers like this: